কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Muhammad Qutayba

কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকদের জন্য জাহাজ চলাচল দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় শুরু হয়েছে। সোমবার সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে তিনটি জাহাজ ১১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে পৃথক সময়ে ছেড়ে যায় এসব জাহাজ। নভেম্বর মাসে সেন্টমার্টিনে রাত যাপনের অনুমতি না থাকায় পর্যটকের আগ্রহ কমে যায় এবং সে কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল। তবে আজ থেকে রাত যাপনের সুযোগ পুনরায় চালু হওয়ায় পর্যটকদের ভ্রমণ আগ্রহ ফিরে এসেছে।

পূর্বঘোষণা অনুসারে ভোর ৬টা থেকেই পর্যটকদের জাহাজে ওঠা শুরু হয়। জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, টুরিস্ট পুলিশ এবং বিআইডব্লিউটিএসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা জেটিঘাটে উপস্থিত থেকে সরকারের দেওয়া ১২ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেন। পরিবেশ অধিদপ্তর একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রত্যেক যাত্রীকে বিনামূল্যে অ্যালুমিনিয়ামের পানির বোতল সরবরাহ করে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা জানান, প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সি ক্রুজ অপারেটর অনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, প্রথম দিনই তিনটি জাহাজে ১১৭৪ জন পর্যটক সেন্টমার্টিনে গেছেন, যা নতুন মৌসুমে পর্যটকদের আগ্রহের ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের তদারকি কমিটির আহ্বায়ক ও কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি পর্যটককে দ্বীপে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। এ লক্ষ্যে কঠোর নজরদারি চলছে। তিনি আরও জানান, প্রথম দিন অনলাইনে নিবন্ধন ছাড়াই টিকিট বিক্রি করার অভিযোগে কেয়ারি সিন্দাবাদ নামে একটি জাহাজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টায় জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং পরদিন বিকেল ৩টায় দ্বীপ থেকে ফিরে আসবে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকেরা নিয়মিত এ ভ্রমণ করতে পারবেন। ১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয় এবং ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি দ্বীপ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গ কিলোমিটার সামুদ্রিক এলাকা সংরক্ষিত ঘোষণা করে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।


সম্পর্কিত নিউজ