প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কী আলাপ হলো ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের ?

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে  কী আলাপ হলো ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের ?
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Md Ibrahim Sakib

আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার, সকাল ১১টায় ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের নেতারা আগারগাঁওস্থ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩২টি আসনের ফলাফল সম্পর্কে নির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন। বৈঠকে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ।

বৈঠক শেষে ড. আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচনে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ আমরা কমিশনের নজরে এনেছি। এর মধ্যে রয়েছে ভোট কারচুপি, পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা, কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, জাল ভোট প্রদান, কালো টাকা ব্যবহারের অভিযোগ এবং কোথাও কোথাও হুমকি-ধমকি ও সহিংসতার ঘটনা। ভোটের প্রক্রিয়া আংশিকভাবে সুষ্ঠু হলেও সামগ্রিকভাবে এর সমাপ্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ে দায়ের করা অভিযোগগুলোর কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। চার শতাধিক হারানো পিস্তল এখনও উদ্ধার হয়নি। এছাড়া কিছু কেন্দ্রে ব্যালটে সিল মেরে দেওয়ার অভিযোগ এবং দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগও এসেছে। ভোটগ্রহণ চলাকালীন ভোটারদের ওপর ভীতি প্রদর্শনের কারণে ভোট উপস্থিতি কম ছিল বলে মনে করেন তিনি।

ড. আযাদ বলেন, “ভোট গণনার সময় কোথাও এজেন্টদের বের করা হয়েছে এবং উপস্থিতদের কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। রেজাল্ট শিটে কাটা-ছেঁড়া, ওভাররাইটিং ও স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি-ঢাকা-৬ আসনের একটি শিটের ক্ষেত্রে পেন্সিলে লেখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”

তিনি আরও জানান, স্বল্প ভোট ব্যবধানের কারণে ৩২টি আসনে জোটের প্রার্থীদের পরাজিত দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে আল্লামা মামুনুল হক, মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং ঢাকা-৮ আসনের নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী রয়েছেন। এই আসনগুলিতে পুনর্গণনার দাবি জানানো হয়েছে এবং প্রমাণসহ অভিযোগ কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।

ড. আযাদ উল্লেখ করেন, প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ে ঋণখেলাপী ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের বৈধতা দেওয়া বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে উত্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “নির্বাচন শেষে দ্রুত গেজেট প্রকাশের কারণে প্রার্থীরা দূরবর্তী এলাকা থেকে অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগোতে প্রস্তুত।”

তিনি বলেন, “জুলাই সনদ বহু ত্যাগ ও আত্মদানের বিনিময়ে প্রণীত হয়েছে। জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান জানিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার প্রত্যাশা আমাদের। আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাই, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সমাধান হওয়া উচিত।”

ড. আযাদ আরও বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ঘটেছে, যা উদ্বেগজনক। ১১ দলীয় ঐক্য ইতোমধ্যেই ৫৪টি জেলায় সহিংসতার তথ্য সংকলন করে গণমাধ্যমে উপস্থাপন করেছে। সহিংসতা বন্ধে এবং গণতান্ত্রিক কর্মসূচি রক্ষা করতে ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকার বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ