{{ news.section.title }}
১৯তম প্রধানমন্ত্রীর ৩৮ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন,দেখুন কারা পাচ্ছে মন্ত্রীর দায়িত্ব
বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন শেষে শপথগ্রহণ করলেন দেশের ২৯৭ জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য। একটু পরেই সংসদের প্রথম সভা তারপরেই আজ বিকেলে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও ১৩ দেশের কূটনীতিকদের সামনে শপথগ্রহণ করবেন নতুন সরকারের মন্ত্রীগণ।দেশের ১৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে চলেছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।নিজ সরকারের মন্ত্রী সভায় কারা থাকবে সেটা তিনি এককভাবে মনোনিত করেছেন বলে বিএনপির একাধিক সুত্র আমাদের জানিয়েছে।
এবারের মন্ত্রীসভা হবে অভিজ্ঞ,তারুণ্য নির্ভর ও ভিন্নধর্মাবলম্বীদের সংমিশ্রণে।সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠন করলেও মন্ত্রীসভার পরিধি ছোটো রাখছেন তারেক রহমান।প্রথমে ৩৮ সদস্য নিয়ে মন্ত্রীসভা গঠন করে সরকারের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।৩৮ জনের তালিকায় রয়েছে অভিজ্ঞ মন্ত্রীরা, যারা ইতিপূর্বে বিএনপির হয়ে দায়িত্ব পালন করেছে।দলটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আলোচনা হয়েছে্।নজরুল ইসলাম খান এবারের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে ছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এজেডএম জাহিদ পেতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। অভিজ্ঞতা এবং দলে অবস্থান অনুযায়ী দলটির সুত্র বলছে তিনি পেতে পারেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। কৃষি ও খাদ্য সেক্টরের বড় উদ্যোক্তা আবদুল আউয়াল মিন্টু পেতে পারেন কৃষি বা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। বিএনপির ২০০১-২০০৬ সরকারের সময়ের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে এবারের মন্ত্রিপরিষদেও রাখার কথা ভাবছে দলটি। এছাড়া মাঠের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় একাধিক নেতাকে মন্ত্রিসভায় রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এদের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি অথবা উপরাষ্ট্রপতির মতো জায়গায় দেখা যেতে পারে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর(অব.)হাফিজ উদ্দীন,মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ, ড.মঈন খান, সালাউদ্দিন আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের বিষয়ে এসব নেতার নাম উঠে এসেছে।
মন্ত্রী পরিষদের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে তারা অবগত আছেন বলে দলের বিভিন্ন সুত্র নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, নতুন সরকারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস গৃহায়ন ও গণপূর্ত, ড. খন্দকার আব্দুল মঈন খান তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রণালয়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সালাহউদ্দিন আহমেদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারম্যান খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, আব্দুস সালাম পিন্টু শিল্প মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন, তার পাশাপাশি শামা ওবায়েদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ড. রেজা কিবরিয়া অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদ দ্বিতীয়বারের মতো পেতে পারেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান পাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন, আমান উল্লাহ আমান পেতে পারেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, হাবিবুর রশীদ হাবিব দূর্যোগ ব্যবস্থাপণা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, মাহদী আমিন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (আইসিটি), ববি হাজ্জাজ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, জয়নুল আবদীন ফারুক মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়, আজিজুল বারী হেলাল পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, হুম্মাম কাদের চৌধুরী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির খাদ্য মন্ত্রণালয়, সানজিদা তুলি নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।
সংখ্যালঘু ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে থেকে একাধিকজনকে দেখা যাবে যাবে মন্ত্রীসভায়।পার্বত্য অঞ্চল থেকে একজন এবং একজন প্রবীণ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।নারীদের মধ্যে থেকে একাধিক জন এবারের মন্ত্রীসভায় দায়িত্ব পাচ্ছেন। আলোচনায় রয়েছে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং মানিকগঞ্জ, সিলেট ও ফরিদপুর থেকে সামা ওবায়েদ্। তরুণদের যেমন সংসদে আসার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে তেমনি মন্ত্রীসভায় থাকবে একাধিক তরুণ মুখ।দলটির ভাষ্যমতে ১০ জন আলোচনায় রয়েছে।চট্টগ্রাম, পঞ্চগড়,নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা থেকে এসব নেতাদের মনোনিত করা হবে।
তরুণের মধ্যে আলোচনায় আছেন যারা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ড. হুমায়ুন কবির (টেকনোক্র্যাটে), সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান, ড. মাহদী আমিন (টেকনোক্র্যাটে), ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার (টেকনোক্র্যাটে), সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম (টেকনোক্র্যাটে), প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম (টেকনোক্র্যাট), মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবীন (টেকনোক্র্যাট), ড. রেজা কিবরিয়া, সাঈদ আল নোমান, খন্দকার আবু আশফাকরা মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেতে পারেন। মন্ত্রী পরিষদ বড় না হলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হবে আন্তর্জাতিক কিছু মুখকে।উপদেষ্টা,বিশেষ সহকারী এবং প্রেস উইংয়ের আকার হবে অন্যান্যবারে তুলনায় কিছুটা বড়। দলটির পক্ষথেকে জানানো হয়, এবারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থাকবে কর্মব্যস্ত। কক্সবাজার-১ আসনের পুণরায় নির্বাচিত সাংসদ সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন নতুন মন্ত্রী সভার সকলের নাম জানতে আর মাত্র কিছু সময় আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।