রংপুর বিভাগে কে কোন আসনে কতো ভোটে জয় পেলো, দেখুন পূর্ণাঙ্গ তালিকা

রংপুর বিভাগে কে কোন আসনে কতো ভোটে জয় পেলো, দেখুন পূর্ণাঙ্গ তালিকা
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Showanur Rahman

গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৪২,৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ সংঘটিত হয়েছিল। একই দিনে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশব্যাপী গণভোটও আয়োজন করা হয়েছিল, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

কেন্দ্রগুলোতে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি দৃশ্যমান ছিল। প্রথমবার ভোট দেওয়া নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ নির্বাচনী পরিবেশে আলাদা মাত্রা যোগ করেছিল। রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে নাগরিকরা উৎসাহ নিয়ে ব্যালটের মাধ্যমে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছিল।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৫ জন। এর মধ্যে গণভোটে অংশ নিয়েছিলেন ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ ভোটার। ফলাফলে দেখা গিয়েছে, ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছিল ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি এবং ‘না’ ভোট পেয়েছিল ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি। এতে স্পষ্ট ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ পক্ষ বিজয়ী হয়েছিল।

অন্যদিকে সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছিল। জামায়াত জোট পেয়েছিল ৭৭টি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি এবং অন্যান্যরা ১টি আসনে বিজয় অর্জন করেছিল।

নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজনের এই অভিজ্ঞতা দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল, যেখানে ভোটারদের অংশগ্রহণ ও জনরায় ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছিল।

রংপুর বিভাগের জেলাসমূহ

রংপুর

রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও সিটির আংশিক) আসনে মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. রায়হান সিরাজী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৫০ হাজার ৮৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন ধানের শীষ প্রতীকে পান ৬৯ হাজার ৪০৭ ভোট। প্রায় ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পান ৭৯ হাজার ৮৬২ ভোট। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী তৃতীয় স্থানে থাকেন। ১৩৭টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় এবং ২ লাখ ৫৩ হাজার ৮৭৮টি বৈধ ভোট গণনা করা হয়।

রংপুর-৩ (সদর ও সিটি করপোরেশন) আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী পান ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এ আসনে তৃতীয় স্থানে নেমে যান।

রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে জামায়াত জোটসমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বিএনপির প্রার্থীকে ৮ হাজার ৩৩১ ভোটে পরাজিত করেন।

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৪ হাজার ১০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী পান ১ লাখ ১৪ হাজার ২১৪ ভোট।

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জামায়াতের অধ্যাপক নুরুল আমিন ১ হাজার ৯৭১ ভোটের ব্যবধানে জয় পান। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৯০ ভোট পান, আর বিএনপির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম পান ১ লাখ ১৬ হাজার ৯১৯ ভোট।

দিনাজপুর

দিনাজপুর-১ এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে মনজুরুল ইসলাম ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মতিউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৮১ ভোট। মনজুরুল ইসলাম ৬১ হাজার ৮৩৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন।

দিনাজপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাদিক রিয়াজ পিনাক চৌধুরী ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর এ কে এম আফজালুল আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৮৮৭ ভোট। এখানে ধানের শীষের প্রার্থী ৩৪ হাজার ৭৩৫ ভোটের ব্যবধানে জামায়াত প্রার্থীকে পরাজিত করেন।

দিনাজপুর-৩ এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ১ লাখ ৪০ হাজার ৬০৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট মাইনুল আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৩৯ ভোট। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল হাড্ডাহাড্ডি, জয়ের ব্যবধান মাত্র ৪ হাজার ৩৬৯ ভোট।

দিনাজপুর-৪ দিনাজপুর-৪ আসনে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপির প্রার্থী আখতারুজ্জামান মিয়া। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আফতাব উদ্দিন মোল্লা পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৬ ভোট। আখতারুজ্জামান ৩৭ হাজার ৬৬১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

দিনাজপুর-৫ এই আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী তৃতীয় অবস্থানে চলে গেলেও জয় পেয়েছেন দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক জেলা বিএনপির সভাপতি এ জেড এম রেজওয়ানুল হক। তালা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি প্রার্থী ডা. আব্দুল আহাদ পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৯৫ ভোট। রেজওয়ানুল হক ৪ হাজার ২৮৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। উল্লেখ্য, এই আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী কামরুজ্জামান ৯৮ হাজার ৫৪৪ ভোট পেয়েছেন।

দিনাজপুর-৬ দিনাজপুর-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী এ জেড এম জাহিদ হোসেন ২ লাখ ৫ হাজার ১০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ারুল হক পেয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৭০৩ ভোট। এখানে ধানের শীষের প্রার্থী ১৪ হাজার ৪০৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁও-১ এ আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ১৪৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন (জামায়াত) ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৮১ ভোট। এ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৩ জন।

ঠাকুরগাঁও-২ ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ডা. আব্দুস সালাম ১ লাখ ২১ হাজার ১৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা আব্দুল হাকিম (জামায়াত), দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৭০৭ ভোট।

ঠাকুরগাঁও-৩ এ আসনে বিএনপির প্রার্থী জাহিদুর রহমান জাহিদ ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৬ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মিজানুর রহমান (জামায়াত), দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পেয়েছেন ৯০ হাজার ৭৬৭ ভোট।

পঞ্চগড়

পঞ্চগড়-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট।

পঞ্চগড়-২ আসনে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে বিএনপির পল্লি উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদ বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী সফিউল আলম সুফি। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৬০৮ ভোট।

লালমনিরহাট

লালমনিরহাট-১ আসনে ১৩৭টি কেন্দ্রের ফলাফল শেষে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির তরুণ প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ হাজার ৭৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৮৯ ভোট। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩ হাজার ৫৬১ জন। তরুণ এই প্রার্থীর বিজয়ে পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা এলাকায় তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে।

লালমনিরহাট-২ আসনে ১৫৫টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৩ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ২৩৬ ভোট।

লালমনিরহাট ৩ সদর আসনে নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রেখে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। ৯৪টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ১০৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৩৮৭ ভোট।

কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রাম–১ (নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী) আসনে ২৩১টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭৮ জন। ঘোষিত বেসরকারি ফল অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ারুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৯০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুর রহমান রানা (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ২৫ ভোট। এ আসনে ভোটের হার ৬৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

কুড়িগ্রাম–২ (সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী) আসনে ২০৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ৬ লাখ ৪ হাজার ৭৩৬। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আতিকুর রহমান (শাপলা কলি) পেয়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৫২৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৪০৫ ভোট। ভোটের হার ৬৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

কুড়িগ্রাম–৩ (উলিপুর) আসনে ১৪০টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭০ জন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৯৩০ ভোট। বিএনপির তাসভীর উল ইসলাম (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৫২ ভোট। এ আসনে ভোটের হার ৬১ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

কুড়িগ্রাম–৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর) আসনে ১৩০টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৩ জন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ২১০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আজিজুর রহমান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৪২৩ ভোট। এ আসনে ভোটের হার ৬২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

গাইবান্ধা

গাইবান্ধার-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাজেদুর রহমান ১ লাখ ৪০ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে জিয়াউল ইসলাম পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৯৯৭ ভোট।

গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল করিম ১ লাখ ২২ হাজার ৬৩০ ভোট পেয়ে জয়লাভ হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আসাদুজ্জামান খান পেয়েছেন ৯২ হাজার ৮৯০ ভোট।

গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী নজরুল ইসলাম ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৫৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মইনুল হাসান সাদিক পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৬৪ ভোট।

গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী শামীম কায়সার ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী আব্দুর রহিম পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৩৮ ভোট।

গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল ওয়ারেছ ৮৯ হাজার ২৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ফারুক আলম পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৪৮৩ ভোট।

নীলফামারী

নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে ১৫৪টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৫০ হাজার ৮২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী মো. আবদুস সাত্তার। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি–সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের খেজুরগাছের প্রার্থী মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ ভোট। এই আসনে গণভোটের ফলাফল ‘হ্যাঁ’ ভোট ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৮৫। ‘না’ ভোট ৯৫ হাজার ৭৮৫।

নীলফামারী-২ (সদর) আসনে ১৩৪ কেন্দ্রে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী আল ফারুক আবদুল লতীফ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪১৮ ভোট। এই আসনে গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭২। ‘না’ ভোট পড়েছে ৯০ হাজার ৭৮৭।

নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে ১০৫ কেন্দ্রে ১ লাখ ৯ হাজার ৬৮৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ আলী পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৮০৭ ভোট। এই আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৩০। ‘না’ ভোট পড়েছে ৬৬ হাজার ৬৩৮।

নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে ১৬৯ কেন্দ্রে ১ লাখ ২৬ হাজার ২২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী আবদুল মুনতাকিম। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী আবদুল গফুর সরকার পেয়েছেন ৮২ হাজার ৮৬ ভোট। এই আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৯৪। ‘না’ ভোট ৫৯ হাজার ৭৭০।


সম্পর্কিত নিউজ