খুলনা বিভাগে কে কোন আসনে কতো ভোটে জয় পেলো, দেখুন পূর্ণাঙ্গ তালিকা

খুলনা বিভাগে কে কোন আসনে কতো ভোটে জয় পেলো, দেখুন পূর্ণাঙ্গ তালিকা
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Showanur Rahman

গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৪২,৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ সংঘটিত হয়েছিল। একই দিনে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশব্যাপী গণভোটও আয়োজন করা হয়েছিল, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

কেন্দ্রগুলোতে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি দৃশ্যমান ছিল। প্রথমবার ভোট দেওয়া নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ নির্বাচনী পরিবেশে আলাদা মাত্রা যোগ করেছিল। রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে নাগরিকরা উৎসাহ নিয়ে ব্যালটের মাধ্যমে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছিল।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৫ জন। এর মধ্যে গণভোটে অংশ নিয়েছিলেন ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ ভোটার। ফলাফলে দেখা গিয়েছে, ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছিল ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি এবং ‘না’ ভোট পেয়েছিল ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি। এতে স্পষ্ট ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ পক্ষ বিজয়ী হয়েছিল।

অন্যদিকে সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছিল। জামায়াত জোট পেয়েছিল ৭৭টি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি এবং অন্যান্যরা ১টি আসনে বিজয় অর্জন করেছিল।

নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজনের এই অভিজ্ঞতা দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল, যেখানে ভোটারদের অংশগ্রহণ ও জনরায় ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছিল।

খুলনা বিভাগের জেলাসমূহ

খুলনা

খুলনা-১ আসনে বিএনপির আমির এজাজ খান, খুলনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-৩ আসনে রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আসনে আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনে মোহাম্মদ আলি আসগর লবি এবং খুলনা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আবুল কালাম আজাদ বিজয়ী হয়েছেন।  প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, খুলনা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমির এজাজ খান ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী পেয়েছেন ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট।

খুলনা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট।

খুলনা-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল ৭৮ হাজার ৮৪৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১০ ভোট।

খুলনা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল ১ লাখ ২৩ হাজার ১৬২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৫৩০ ভোট।

খুলনা-৫ আসনে আলি আসগর লবি ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট।

এছাড়া খুলনা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ১ লাখ ৫০ হাজার ৭২৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পি পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭১০ ভোট।

বাগেরহাট

বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, ফকিরহাট ও মোল্লাহাট) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মশিউর রহমান বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়েছে। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির কপিল কৃষ্ণ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৯০ ভোট।তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ১৪৭টি কেন্দ্র ছিল। তিনটি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রাপ্ত ফলাফলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৩৭০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন পেয়েছেন ৬৬ হাজার ২৭৪ ভোট। বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৫০ হাজার ৯৬ ভোট। বাগেরহাট সদর ও কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর এ তথ্য জানিয়েছেন।

বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল)আসনে বিএনপির শেখ ফরিদুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১ লাখ ৩ হাজার ৭১১ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াদুদ পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৭০৫ ভোট। মোংলা ও রামপাল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এই ফলাফল নিশ্চিত করেছেন।

 বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে বেসরকারিভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল আলিম বিজয়ী হয়েছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এই প্রার্থী পেয়েছেন এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সোমনাথ দে ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৩২৬ ভোট।এই আসনে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ১৭ হাজার ৭৪১ ভোট। মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এই ফলাফল নিশ্চিত করেছেন।

সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া): এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের মো. ইজ্জত উল্লাহ। ১৬৯টি কেন্দ্রের সবকটির ফলাফলে (পোস্টাল ভোটসহ) তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯৫ ভোট। মো. ইজ্জত উল্লাহ ২৩ হাজার ৭৭৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা): এই আসনে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত নেতা মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। ১৮১টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৯ ভোট। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মো. আব্দুর রউফ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ২২৯ ভোট। মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৯২ হাজার ৮২৮টি এবং ‘না’ ভোট ৮৬ হাজার ৬১৯টি। মোট ভোট পড়েছে ৭৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালীগঞ্জ): এই আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতের হাফেজ মুহা. রবিউল বাসার। ১৬৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৩৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম (ফুটবল প্রতীক) পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৩৮৯ ভোট। ৭৮ হাজার ৮৪৪ ভোটের ব্যবধানে রবিউল বাসার জয়ী হয়েছেন। এদিকে বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৮১৯ ভোট।

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর): এ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম। ৯৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৯১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ড. মো. মনিরুজ্জামান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪২৬ ভোট। ২১ হাজার ৪৮৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন গাজী নজরুল ইসলাম।

যশোর

যশোর-১ (শার্শা) আসনে জয়ী হয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আজীজুর রহমান। ১০২ কেন্দ্রে তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৩। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪২ ভোট। ২৫ হাজার ৫৫১ ভোট বেশি পেয়েছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক। এ আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

যশোর-২ আসনে (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৭১ হাজার ৯৯১। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাবিরা সুলতানা পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩২২ ভোট। তিনি বিজয়ী ফরিদের চেয়ে ২৫ হাজার ৬৬৯ ভোট কম পেয়েছেন। এ আসনে ৮ জন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

যশোর-৩ (সদর) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। মোট ১৯০ কেন্দ্রে ধানের শীষ পেয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪৭ ভোট। আর দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৪৫৯ ভোট। অর্থ্যাৎ ১৫ হাজার ১৮৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৬ জন।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর-বসুন্দিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের গোলাম রছুল বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৩৩। তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ধানের শীষ প্রতীকের মতিয়ার রহমান ফারাজীর। ফারাজী পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ১৭২ ভোট। ৪৯ হাজার ৩৬১ ভোটে হেরে গেছে ধানের শীষ। এ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৭ জন।

যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে ত্রিমুখী লড়াই হয়েছে। এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী গাজী এনামুল হক বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট এক লাখ ৩২ হাজার ৮৫৮। বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে এ আসনে নির্বাচন করা শহীদ মো. ইকবাল হোসেন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৮৫ হাজার ৫১৭। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি জোট থেকে মনোনয়ন পাওয়া জমিয়াতে উলামায়ে ইসলামের রশীদ আহমাদ। তার প্রাপ্ত ভোট ৫৫ হাজার ৪১৯। এ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৬ জন।

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোক্তার আলী। তিনি পেয়েছেন ৯২ হাজার ২৫৩ ভোট। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯৭৯ ভোট। ১২ হাজার ২৭৪ ভোট বেশি পেয়েছে দাঁড়িপাল্লা।  এ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৫ জন।

ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহ-১ আসনে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান এক লাখ ৭৮ হাজার ৫৯১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৫৭৭ ভোট।

ঝিনাইদহ-২ আসনে বেসরকারি ফলাফলে জামায়াতের প্রার্থী আলী আজম মোঃ আবু বকর এক লাখ ৩১ হাজার ৮৬৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আব্দুল মজিদ পেয়েছেন এক লাখ ৫ হাজার ৬৬৪ ভোট।

ঝিনাইদহ-৩ আসনে জামায়াতের মতিয়ার রহমান এক লাখ ১৮ হাজার ৬৫৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মেহেদী হাসান রণি পেয়েছেন এক লাখ ৭৬৫ ভোট।

ঝিনাইদহ-৪ আসনে জামায়াতের আবু তালিব এক লাখ ৩ হাজার ২০০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ পেয়েছেন ৭৫ হাজার ২০০ ভোট। এছাড়া বিএনপির প্রার্থী রাশেদ খান ৫৫ হাজার ৬৭০ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।

মাগুরা

মাগুরা-১ (সদর - শ্রীপুর) আসনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মনোয়ার হোসেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৬৬ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল মতিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৬ ভোট। বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নাজিরুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ১৩ হাজার ৩৩৫ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে ভোট কাস্ট হয়েছে ৬৮.৪০ ভাগ। মোট ভোটার ৪ লাখ ৩০ হাজার ৭৭৫ এবং ভোট কেন্দ্র ১৫৬টি।

মাগুরা ২ (মহম্মদপুর-শালিখা-সদরের ৪টি ইউনিয়ন) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৬ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১৭ হাজার ১৮ ভোট পেয়েছেন। বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোস্তফা কামাল হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ১৬ হাজার ২২৩ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে ভোট কাস্ট হয়েছে ৬৯ ভাগ। মোট ভোটার ৪ লাখ ১৬ হাজার ৬৩৪ এবং ভোট কেন্দ্র ১৪৫টি।

নড়াইল

নড়াইল-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ৮৪ হাজার ৮১৮ ভোট পেয়ে বেসরকারি বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা ওবায়দুল্লাহ কায়সার পেয়েছেন ৬১ হাজার ২৯৭ ভোট।অন্যদিকে নড়াইল-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বাচ্চু ১লাখ ১৮হাজার ১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কলস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৪৪৫ ভোট।

নড়াইল‑২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বাচ্চু ১,১৮,০১৬ ভোট পেয়ে বেসরকারি বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কলস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৭,৪৪৫ ভোট।

কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনে বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষের প্রতীকে রেজা আহমেদ ওরফে বাচ্চু মোল্লা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা বেলাল উদ্দীন পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৫ হাজার ভোট।

রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা এর আগেও বিএনপির থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার পিতা প্রয়াত আহসানুল হক পচা মোল্লা ও এ আসনের একাধিকবার নির্বাচিত এমপি এবং বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে প্রায় ৪৬ হাজার ৫৩৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিএনপির রাগীব রউফ চৌধুরীকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল গফুর।

দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত এ সংসদীয় আসনের মোট ১৭০ টি ভোট কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮১৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রতীক রাগীব রউফ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ২৮২ ভোট। আব্দুল গফুর এর আগে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সাবেক নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী আলোচিত প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর মুফতি আমির হামজা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ৫০ হাজার ৯২৬ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। এ আসনে ১৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩৬ টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে আমির হামজা ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৩ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন সরকার ১ লাখ ১৯ হাজার ১৩৭ ভোট পেয়েছেন।

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪০ হাজার ৮৪২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৭ হাজার ২৬৯ জন এবং নারী ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৬৯ জন।

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বেসরকারিভাবে জামায়াতে ইসলামীর মো. আফজাল হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৭ হাজার ৬৩০ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনে ১৫২ টি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ১ লাখ ৪৬ হাজার ২০৪। তার নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৭৪ ভোট।

মেহেরপুর

মেহেরপুর-১ আসনে মোট ১২৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী তাজউদ্দীন খান ১ লাখ ২২ হাজার ৮২৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাসুদ অরুন পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ২২৪ ভোট। এ আসনে বিজয়ের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬০৫ ভোটে। ভোট গণনা শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বেসরকারিভাবে এ ফল ঘোষণা করা হয়।

মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে মোট ৯০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ আসনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী নাজমুল হুদা ৯৪ হাজার ১৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আমজাদ হোসেন পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৬৮৯ ভোট। দু’জনের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ৮ হাজার ৪৭৯।

চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ১৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের শরীফুজ্জামান পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৮ ভোট।এই আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৬ হাজার ৩৩৭ জন। ভোটগ্রহণের হার ছিল প্রায় ৭৪ শতাংশ। পোস্টাল ব্যালটের ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছে ২ হাজার ৭৪১ ভোট, ধানের শীষ পেয়েছে ৮১১ ভোট এবং হাতপাখা প্রতীক পেয়েছে ৮৯ ভোট।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনেও জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১০ হাজার ১১১ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের মাহমুদ হাসান খান বাবু পেয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ২৯৯ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৮৭ হাজার ২১২ জন এবং ভোট প্রদানের হার ছিল প্রায় ৭৮ শতাংশ।

 


সম্পর্কিত নিউজ