{{ news.section.title }}
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কী ও কেন
বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ (Article 56(2) of the Constitution) অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার অনধিক এক-দশমাংশ (One-tenth) সদস্যকে সংসদ সদস্য নন এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে পারেন। তবে শর্ত থাকে যে, তাদের অবশ্যই সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। অর্থাৎ, তিনি যদি নির্বাচনে দাড়াতেন তবে তার কোনো অযোগ্যতা থাকতো না।মুলত এমন শর্ত সাপেক্ষে কাওকে নিয়োগ দিলে তাকে ট্যাকনোক্র্যান্ট বলা হয়।
আজ গঠিত হওয়া সরকারের মন্ত্রী পরিষদে ৩ জন ট্যাকনোক্র্যান্ট মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন।দুজন পূর্ণমন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী।মন্ত্রী হিসেবে আছেন আমিনুর রশিদ ইয়াছিন এবং ড. খলিলুর রহমান। আর আমিনুল হককে করা হচ্ছে প্রতিমন্ত্রী। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কী? সহজভাবে বললে, যিনি সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য হননি, কিন্তু বিশেষ দক্ষতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা বা নীতিনির্ধারণী সক্ষমতার কারণে প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে মন্ত্রিসভায় স্থান পান—তিনিই টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী।
১. বিশেষজ্ঞ জ্ঞান যুক্ত করা অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, পররাষ্ট্র বা স্বাস্থ্যখাতের মতো জটিল ক্ষেত্রে অনেক সময় বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হয়। তাঁরা সরাসরি রাজনীতিতে না থাকলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
২. মেধা ও অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন দলের ভেতরে বা বাইরে থাকা দক্ষ, উচ্চশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নীতিনির্ধারণে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়।
৩. রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা দলের কোনো জ্যেষ্ঠ বা পরীক্ষিত নেতা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে বা পরাজিত হলেও তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে এই কোটা ব্যবহার করা হয়।
সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাবলে ট্যাকনোক্র্যান্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ হয়ে থাকে। সংসদে ভোট দেওয়া ব্যতিত তারা বাকী মন্ত্রী /সাংসদদের মতো সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা গ্রহণ ও কার্যসম্পাদন করতে পারেন। এবার প্রশ্ন হলো কতোজন ট্যাকনোক্র্যান্ট মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী পরিষদের সদস্য সংখ্যার ১০% ট্যাকনোক্র্যান্ট হতে পারবে।এই মন্ত্রীরা বাকী মন্ত্রীদের মতো সমান সুযোগ সুবিধা বেতন ভাতা ও প্রটোকল পেয়ে থাকেন।
ট্যাকনোক্র্যান্ট মন্ত্রী নিয়ে কিছু জিজ্ঞাসা ও উত্তর:
প্রশ্ন: টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা কি সংসদে ভোট দিতে পারেন?
উত্তর: না। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা সংসদে বক্তব্য রাখতে পারেন এবং সরকারি কাজে অংশ নিতে পারেন, কিন্তু কোনো আইন প্রণয়ন বা সংসদীয় ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারেন না।
প্রশ্ন: তারা কি সাধারণ মন্ত্রীদের মতো সমান বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পান?
উত্তর: হ্যাঁ। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমান বেতন, ভাতা, গাড়ি, বাড়ি এবং অন্যান্য লজিস্টিক সুবিধা ভোগ করেন।
প্রশ্ন: কেন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়?
উত্তর: সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান (যেমন: অর্থনীতি, প্রযুক্তি বা কূটনীতি) সম্পন্ন ব্যক্তিদের সরাসরি যুক্ত করে প্রশাসনিক গতিশীলতা বাড়াতে এই নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রশ্ন: টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা কি নির্বাচনের আগে পদত্যাগ করতে হয়?
উত্তর: হ্যাঁ। সাধারণত জাতীয় সংসদ ভেঙে যাওয়ার অন্তত ৯০ দিন আগে বা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সময় টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগ করতে হয়।
প্রশ্ন: টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা কার কাছে জবাবদিহি করেন?
উত্তর: তারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং সামগ্রিকভাবে মন্ত্রিসভা সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকে।
প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রীর কি টেকনোক্র্যাট কোটা ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক?
উত্তর: না, এটি বাধ্যতামূলক নয়। এটি প্রধানমন্ত্রীর একান্ত স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা (Discretionary Power)।
প্রশ্ন: কোনো বিদেশি নাগরিক কি টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হতে পারবেন?
উত্তর: না। বাংলাদেশের নাগরিক নয় এমন কেউ মন্ত্রী হতে পারবেন না, কারণ তার সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা নেই।
প্রশ্ন: টেকনোক্র্যাট কোটায় কি প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া যায়?
উত্তর: হ্যাঁ। পূর্ণ মন্ত্রীর পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী (State Minister) বা উপমন্ত্রী (Deputy Minister) পদেও টেকনোক্র্যাট কোটায় নিয়োগ দেওয়া সম্ভব।
প্রশ্ন: টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগের সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ কোনটি?
উত্তর: বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ ভাগের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ (Article 56(2) of the Constitution)।
প্রশ্ন: টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের শপথ পাঠ করান কে?
উত্তর: সাধারণ মন্ত্রীদের মতো টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদেরও শপথ বাক্য পাঠ করান মহামান্য রাষ্ট্রপতি।