রাষ্ট্র গঠনে ইসলামি আন্দোলনের প্রধান ৬ দফা

রাষ্ট্র গঠনে ইসলামি আন্দোলনের প্রধান  ৬ দফা
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

নির্বাচনী ইশতেহার হলো একটি রাজনৈতিক দলের জনগণের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতির লিখিত পরিকল্পনা। এতে দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি তুলে ধরা হয়।ভোটাররা ইশতেহার দেখে দলের লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে ধারণা পায়। একটি বাস্তবসম্মত ও জনবান্ধব ইশতেহারই জনগণের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১. মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতি দায়বদ্ধতা

ইসলামী আন্দোলন এই ব্যাপারে তার প্রতিজ্ঞা পুর্নব্যক্ত করছে যে, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পুরোমাত্রায় বাস্তবায়ন করা হবে। ইসলামী আন্দোলন সংস্কারে যেসকল বিষয়ে উত্থাপন করেছিলো-যেমন পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা-সেগুলোও রাষ্ট্রের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ধারাক্রম অনুসরণ করে বাস্তবায়ন করা হবে।

২. পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন

বিশ্বের বহুদেশের অনুসৃত বাস্তবতা, বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দুর করতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে পিআর পদ্ধতি একটি কার্যকর সমাধান। সেজন্য আমরা ক্ষমতায় গেলে পিআর পদ্ধতি প্রবর্তন করবো।

৩. ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা

বাংলাদেশে বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাস দেশের বিদ্যমান সংবিধান মেনেই ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠেছিলো। আমাদের সংবিধানে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সেই সুযোগ করে দেয়া আছে। রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করে একক ব্যক্তিকে অতিমাত্রায় ক্ষমতায়িত করা আছে। আমরা ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করবো।

৪. সেবাভিত্তিক দক্ষ ও সৎ উন্নত জনপ্রশাসন গড়ে তোলা

বাংলাদেশ উপনিবেশন থেকে দুই-দুইবার স্বাধীনতা অর্জন করেছে। কিন্তু তিক্ত বাস্তবতা হলো, আমাদের জনপ্রশাসন এখনো বিট্রিশ আইন, আচার-প্রথা ও রীতি-নীতিতে পরিচালিত হয়। ফলে জনপ্রশাসনের কর্তব্যরতরা নিজেদেরকে জনতার সেবক না ভেবে প্রভু ভাবেন। আমরা এর আমূল পরিবর্তন আনবো।

জনসেবামুখি, দক্ষতা ও জবাবদিহিতামূলক জনপ্রশাসন গড়ে তুলবো।


উন্নয়ন কর্মকান্ডের উৎকর্ষতা একটি দক্ষ সৎ ও কার্যকর প্রশাসনের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। এ অনুধাবনে প্রণিত হয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত একটি পেশাদারী সরকারী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা


হবে।

সেবাপ্রদানকারী সকল সরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ডে সেবাগ্রহীতাদের কাছে জবাবদিহিতার নিশ্চয়তা বিবানে একটি সুনির্দিষ্ট ফ্রেমওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করা হবে।


উন্নয়ন প্রশাসনের সকল পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূণ্য সহিষ্ণুতার সংস্কৃতি চালু করা হবে। এ সংস্কৃতির


প্রতিষ্ঠায় এ.সি.সি.কে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হবে।

সরকারী ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নিশ্চয়তা বিধানে সরকারী ক্রনা, বিনিয়োগ, বিনিয়োগে অগ্রগতি,


টেন্ডার, অর্থব্যয়, প্রজেক্ট সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য উন্মুক্ত করা হবে।।

সরকারী ব্যয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও ব্যয়ের দক্ষতা ও উৎকর্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাবলিক এক্সপেন্ডিচার। রিভিউ কমিশনা গঠন করা হবে।


৫. রাজস্ব স্পেস এর সম্প্রসারণ

রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের লক্ষ্য হবে রাজস্ব আয়-জিডিপি-র হারের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি যাতে আগামী পাঁচ বছরে এ হার দক্ষিণ এশিয়ার গড় হারের সমপর্যায়ে (১৪-১৫%) উন্নিত করা সম্ভব হয়।
৬. স্বনির্ভর শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ডিফেন্স সিস্টেম গড়ে তোলা

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখা দুস্কর। মতাদর্শগত ভিন্নতার কারণে অন্য দেশের স্বার্ববৌমত্ব লংঘন করার ঘটনা খুবই সাধারণ ঘটনায় পরিনত হয়েছে। সেজন্য আমরা স্বনির্ভর ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবো। আকাশ, নৌ ও স্থল বাহিনীর সক্ষমতা বিশ্বমানের করে তুলবো।


সম্পর্কিত নিউজ