{{ news.section.title }}
জামায়াতের নির্বাচনী ফলাফল কি হবে? যে আগাম বার্তা দিলো রয়টার্স
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় পর সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও পলায়নের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যে এই ভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা, অর্থনীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে। এই নির্বানের উপর নির্ভর আগামী পাঁচ বছর কেমন হবে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, দীর্ঘ দেড় দশকের একচেটিয়া রাজনৈতিক প্রভাবের পর এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে বছরের পর বছর ধরে নির্বাচনের সময় রাজপথে বিরোধীদের উপস্থিতি ছিল খুবই নগ্ন । কখনও তারা নির্বাচন বর্জন করেছে, আবার কখনও শীর্ষ নেতাদের গণগ্রেপ্তারের কারণে তারা কার্যত মাঠের বাইরে ছিল।
তবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে সেই চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে। এবার তারা সবাই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছে।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এই নির্বাচনে জয়ী হবে বলে ‘ব্যাপকভাবে ধারণা’ করা হচ্ছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন একটি জোট তাদেরকে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। এর পাশাপাশি ৩০ বছরের কম বয়সী জেন-জেড কর্মীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি নতুন দলও জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধেছে।
হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকলেও তারা সেই জনসমর্থনকে স্বতন্ত্র নির্বাচনী শক্তিতে রূপ দিতে পারেনি। তারা জামাতের সাথে জোট তৈরি করে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেন, সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার দল সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন পাবে বলে আত্মবিশ্বাসী।
বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে যদি স্পষ্ট রায় আসে, তাহলে ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরতে সহায়ক হবে। হাসিনার পতনের পর কয়েক মাসের অস্থিরতায় তৈরি পোশাক খাতসহ বড় শিল্প খাতগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশের জন্য বড় ধাক্কা।
এই নির্বাচনের ফলাফল দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে আঞ্চলিক শক্তিধর চীন ও ভারতের ভূমিকার ওপরও প্রভাব ফেলবে। ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসি বলেন, ‘জনমত জরিপে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও এখনও ভোটারদের বড় একটি অংশ কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। ফলাফলের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’।
তিনি বলেন, ‘ভোটের ফল নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় প্রভাব ফেলবে। এর মধ্যে জেনারেশন জেডের ভোট বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশই এই প্রজন্মের।’সারা দেশে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ এবং জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকসংবলিত সাদা-কালো পোস্টার ও ব্যানার খুঁটি, গাছ এবং সড়কের দেয়ালে ঝুলতে দেখা যাচ্ছে।
এর সঙ্গে রয়েছে বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারসামগ্রী। সড়কের মোড়ে মোড়ে দলীয় প্রতীক লাগানো অস্থায়ী কার্যালয় থেকে ভেসে আসছে প্রচারণার গান। আগের নির্বাচনের সঙ্গে এর বড় পার্থক্য হলো— তখন সর্বত্রই আধিপত্য ছিল আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীকের।জনমত জরিপে ধারণা করা হচ্ছে, একসময় নিষিদ্ধ থাকা জামায়াত এবার তাদের ইতিহাসের সেরা নির্বাচনী ফল করতে পারে, যদিও দলটি এককভাবে সরকার গঠন নাও করতে পারে।
দলটি ১৯৭১ সালে ভারতের সমর্থনে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল।বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হলে দেশটি পাকিস্তানের দিকে আরও ঝুঁকতে পারে বলে তাদের ধারণা। পাকিস্তান একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী।
সব মিলিয়ে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানকে পরবর্তী সরকারপ্রধান হওয়ার সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে যদি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে যায়, তাহলে তাদের চেয়ারম্যান ডা. শফিকুর রহমানও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে থাকতে পারেন। এখন সময়ই বলে দিবে কে হচ্ছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।