{{ news.section.title }}
যে ভুলের কারণে বাতিল হতে পারে আপনার ভোট
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
আগামীকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবার দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজন করা হচ্ছে।
তবে সামান্য অসতর্কতা বা ভুলের কারণে ভোট বাতিল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই ভোটারদের সতর্কতার সঙ্গে ব্যালট বা ভোটিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ভোট দেওয়ার সময় কোন কোন ভুল হলে ভোট বাতিল হতে পারে—সে বিষয়ে আগেই জেনে রাখা এবং সতর্ক থাকা জরুরি।
ভোট দেওয়ার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি
ভোট দেওয়া নাগরিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। তবে ব্যালট পেপারে সামান্য অসতর্কতা বা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আপনার দেওয়া ভোটটি গণনার বাইরে চলে যেতে পারে। তাই ভোটকেন্দ্রে ঢোকার আগে কিছু মৌলিক নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি।
১. নির্ধারিত মার্কার ভেতর সিল নিশ্চিত করুন
ব্যালট পেপারে প্রতিটি প্রার্থীর নামের পাশে একটি করে প্রতীক বা মার্কা থাকে। ভোট দিতে হলে সেই নির্দিষ্ট মার্কার ভেতরে সিল দিতে হবে। যদি সিল নির্ধারিত বক্সের বাইরে চলে যায় বা পাশের ঘরে চলে পড়ে, তাহলে ভোট গণনার সময় বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে ব্যালট বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সিল দেওয়ার সময় ধীরে ও সতর্কভাবে চাপ দিতে হবে।
২. ব্যালট পেপার ভাঁজ করার সময় সাবধানতা
ভোট দেওয়ার পর ব্যালট পেপার ভাঁজ করতে হয়। অনেক সময় ভুলভাবে ভাঁজ করলে সিলের কালি পাশের মার্কায় লেগে যেতে পারে। যদি একাধিক প্রতীকে কালি লাগে, তাহলে সেটিকে একাধিক ভোট হিসেবে ধরা হতে পারে এবং পুরো ব্যালট বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই নির্বাচন কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যালট ভাঁজ করা উচিত।
৩. একাধিক প্রতীকে সিল দিলে ভোট বাতিল
কখনো কেউ বিভ্রান্ত হয়ে দুই বা ততোধিক প্রার্থীর প্রতীকে সিল দিয়ে ফেলেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী, একটি ব্যালটে শুধুমাত্র একটি প্রতীকে সিল দেওয়া যাবে। একাধিক মার্কায় সিল পড়লে ব্যালট গণনার অযোগ্য হয়ে যায়। তাই গোপন কক্ষে ঢোকার আগেই নিজের পছন্দ নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।
৪. ব্যালটে কোনো ব্যক্তিগত চিহ্ন বা স্বাক্ষর দেওয়া যাবে না
কেউ কেউ ব্যালটে কলম দিয়ে দাগ দেন, টিক চিহ্ন দেন বা নিজের নাম/স্বাক্ষর লেখেন। এতে ব্যালটের গোপনীয়তা নষ্ট হয়। নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সিল ব্যবহার করা যাবে। অন্য কোনো চিহ্ন থাকলে সেই ভোট গ্রহণযোগ্য থাকে না।
৫. ব্যালট পেপার ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভোট গণনায় আসবে না
যদি ব্যালট পেপার ছিঁড়ে যায়, কুঁচকে যায় বা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সেটিও বাতিল হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই ব্যালট হাতে পাওয়ার পর তা সাবধানে ধরে রাখতে হবে এবং কোনোভাবে নষ্ট করা যাবে না।
৬. ব্যালটে লেখা বা মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন
কিছু ভোটার ব্যালটে স্লোগান, অভিযোগ, মন্তব্য বা বার্তা লিখে দেন। অনেক সময় মজা বা আবেগ থেকেও এমনটি করা হয়। কিন্তু ব্যালটে কোনো ধরনের লেখালেখি থাকলে সেটিকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং ভোট বাতিল হয়ে যায়।
৭. ভোটারের পরিচয় প্রকাশের মতো কিছু করা যাবে না
ব্যালটে এমন কোনো চিহ্ন দেওয়া যাবে না যাতে বোঝা যায় কে ভোট দিয়েছে। কোনো সাংকেতিক চিহ্ন, আলাদা দাগ বা বিশেষ সংকেত থাকলেও ব্যালট বাতিল হতে পারে। কারণ ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করা নির্বাচনী ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।