{{ news.section.title }}
বাংলাদেশের গণতন্ত্রের যাত্রা সঠিক গন্তব্যেই পৌঁছাবে : সিইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা, ভোটের স্বচ্ছতা এবং তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা-সবকিছুই এখন জনআলোচনার কেন্দ্রে। এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন হাইস্কুল কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিইসি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ গণতন্ত্রের যে পথে বা ‘ট্রেনে’ যাত্রা শুরু করেছে, সেটি নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাবে।
তিনি জানান, নির্বাচনের আগের দিন বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে কথা বলে তাদের স্পষ্টভাবে নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, অধীনস্ত সবাইকে নিরপেক্ষ রাখার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। এ সময় বিভাগীয় কমিশনারের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সিইসি আরও বলেন, জাতির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি নিজেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে চান এবং সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন।
সিইসির এই বক্তব্য ভোটারদের আস্থার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনের নিরপেক্ষতার ওপর জোর দেওয়ায় ভোটের পরিবেশ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। একই সঙ্গে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তি মোকাবিলায় মূলধারার গণমাধ্যমের ওপর নির্ভরতার আহ্বান ভোটারদের সচেতন ভূমিকা পালনে উৎসাহ জোগাতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকালীন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ভিডিও ও এআই-তৈরি ছবির বিস্তার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিইসির বক্তব্যে এই বাস্তবতার স্বীকৃতি পাওয়া গেছে। তবে এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নির্বাচন কমিশন মূলধারার মিডিয়া ও প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। ভোটাররা তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
উল্লেখ্য, ঢাকা-৮ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৫ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ২২ হাজার ৬৭৫ জন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দেশব্যাপী ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্রসহ মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।