{{ news.section.title }}
ভোটের কালি সহজে উঠতে চায় না কেন?
নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর আঙুলে লাগানো কালিটি সাধারণ কালি নয়। এটি একটি বিশেষভাবে প্রস্তুত করা নির্বাচনী বা ভোটের কালি, যার মূল উদ্দেশ্য হলো ভোটে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং একজন ভোটার যেন একাধিকবার ভোট দিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা।
এই কালি নখে বা আঙুলে লাগানোর পর অনেকদিন পর্যন্ত থেকে যায়। সাবান, পানি কিংবা ডিটারজেন্ট দিয়েও সহজে ওঠে না। এর পেছনে রয়েছে সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণ।
ভোটের কালির পেছনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
ভোটের কালি মূলত এমনভাবে তৈরি, যাতে এটি ত্বকের ওপর শুধু বসে না থাকে, বরং ত্বক ও নখের গঠনের সঙ্গে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে যায়। ফলে এটি সহজে মুছে ফেলা সম্ভব হয় না।
১. সিলভার নাইট্রেটের ভূমিকা
ভোটের কালির প্রধান উপাদান হলো সিলভার নাইট্রেট (AgNO₃)। এই রাসায়নিকটি ত্বকের সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের আর্দ্রতা এবং শরীরে থাকা লবণের (সোডিয়াম ক্লোরাইড) সঙ্গে বিক্রিয়া করে সিলভার ক্লোরাইড তৈরি করে।
এই সিলভার ক্লোরাইড পানিতে অদ্রবণীয় এবং ত্বকের সঙ্গে শক্তভাবে লেগে থাকে। ফলে শুধু পানি বা সাবান দিয়ে এটি সরানো যায় না।
২. আলোর সংস্পর্শে স্থায়ী দাগ
সিলভার ক্লোরাইড যখন সূর্যালোক বা সাধারণ আলোতে আসে, তখন এটি ভেঙে গিয়ে ধাতব সিলভারে পরিণত হয়। এই ধাতব সিলভারই আঙুলে গাঢ় কালো বা বেগুনি দাগ তৈরি করে।
এই পরিবর্তন একবার হলে দাগটি আরও স্থায়ী হয়ে যায়।
৩. ত্বকের প্রোটিনের সঙ্গে বন্ধন
ভোটের কালি ত্বকের উপরের স্তরে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি ত্বক ও নখের প্রোটিন কেরাটিনের সঙ্গে রাসায়নিক বন্ধন তৈরি করে। ফলে ঘষাঘষি, ডিটারজেন্ট বা এমনকি কিছু শক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করলেও দাগ সহজে উঠে আসে না।
৪. সময় ছাড়া বিকল্প নেই
এই কালি পুরোপুরি তখনই উঠে যায়, যখন ত্বকের ওপরের মৃত কোষগুলো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ঝরে পড়ে এবং নিচ থেকে নতুন ত্বক তৈরি হয়। এই প্রাকৃতিক কোষ পরিবর্তনের (Skin Regeneration) প্রক্রিয়ায় সাধারণত কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে।
কেন এমনভাবে কালি তৈরি করা হয়েছে?
নির্বাচনে কারচুপি রোধই এর প্রধান উদ্দেশ্য। ভোটের কালি যদি সহজে উঠে যেত, তাহলে কেউ একই নির্বাচনে একাধিকবার ভোট দেওয়ার চেষ্টা করতে পারত। তাই আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত এই কালি এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে-
- এটি সহজে মোছা না যায়
- কৃত্রিম উপায়ে উঠানো প্রায় অসম্ভব হয়
- নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দৃশ্যমান থাকে
সহজভাবে বললে
ভোটের কালি এমন কোনো সাধারণ কালি নয়, যা ধুয়ে ফেললেই চলে যাবে। এটি সময়কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। সাবান, তেল বা ঘষাঘষি নয়-শুধু সময়ের সঙ্গেই এই কালি ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়।
এই বৈজ্ঞানিক কৌশলই ভোটের স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।