{{ news.section.title }}
সারা দেশে ভোটকেন্দ্রে মৃত্যুর সংখ্যা কত ?
এবারের নির্বাচন ছিলো সবার নিকট একটি উৎসব ও আমেজের মতো। কিন্তু কারোর জিবনে এই দিনে নেমে আসছে এক গভীর বেদনা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট দিতে কেন্দ্রে গিয়ে চট্টগ্রাম, খুলনা, মানিকগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
তাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে অসুস্থবোধ করার পর। অপরজনকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে এক পোলিং কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। মুজাহিদুল ইসলাম (৪৮) নামে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে উপজেলার নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়াম কেন্দ্রে (ভোটকেন্দ্র নং -৫১) দায়িত্ব পালন করছিলেন। সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ করেই তিনি অসুস্থবোধ করেন।
সহকর্মীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে’ মুজাহিদুল মারা গেছেন বলে চিকিৎসক ধারণা করছেন।
খুলনায় ভোটকেন্দ্রের বাইরে জামায়াতকর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার মধ্যে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। বিএনপি বলছে, এক জামায়াত নেতা ‘ধাক্কা দেওয়ায়’ গাছের সঙ্গে লেগে আঘাত পাওয়ায় তার মৃত্যু হয়। তবে জামায়াত নেতারা বলছেন, উত্তেজনার মধ্যে ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
মহিবুজ্জামান কচি নামের ৫৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি খুলনা নগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক। নগরের হাজী মহসিন রোড বাই লেনে তার বাড়ি।আজ সকাল ৮টা ১০ মিনিটে খুলনা সদরের আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই কেন্দ্রে দায়িত্বরত সদর থানা এসআই খান ফয়সাল রাফি বলেন, সকালে আলিয়া মাদ্রাসার কেন্দ্রের অদূরে সামনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং দুই পক্ষকে সরিয়ে দেই।
তখন একজনকে অটোরিকশায় করে বাইরে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এখানে ধাক্কাধাক্কি বা হাতাহাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি।মানিকগঞ্জ-১ আসনের মহাদেবপুরে ভোট দিতে গিয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে তার মৃত্যু হয় বলে ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানিয়েছেন।
মৃত ৬৫ বছর বয়সী বাবু মিয়া মহাদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের মহাদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা; তার বাবার নাম হামেদ মিয়া।প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বাবু মিয়া কেন্দ্রের সামনে থেকে ভোটার স্লিপ (টোকেন) নিয়ে ভেতরে যাওয়ার সময় মাথা ঘুরে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। বাবু মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া বলেন, বাবা ভোট দিতে গিয়ে স্ট্রোক করে মারা যান।
চট্টগ্রাম নগরীতে ভোট দিতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক ভোটারের মৃত্যু হয়েছে। আজ সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রাম মহানগরীর কাজীর দেউড়ি বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম মো. মনু মিয়া (৬২)। তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। নগরের ব্যাটারিগলির মধুবন গলিতে তার বাড়ি।
মনু মিয়ার বড় ছেলে শাকিল বলেন, সকালে ভোট দিতে বাবা কাজীর দেউরি বালক স্কুলে যান। তিনি ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারের লাইনেও দাঁড়ান। কিন্তু ভোট কক্ষে প্রবেশের আগে তিনি দাঁড়ানো অবস্থা থেকে পড়ে যান। তাকে দ্রুত বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শাকিল আরও বলেন, চিকিৎসকেরা বলেছেন হৃদরোগে বাবার মৃত্যু হয়েছে। যদিও সরকার বলে ছিলো এই নির্বাচন সুষ্ট হবে কোন কারচুপি হবে না কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায় কিছু কিছু জায়গায় কারচুপি হয়েছে।