{{ news.section.title }}
ফেনীতে ভোট দেয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
নির্বাচন আসলে দেশে কত ধরণের ঘটনা ঘটে থাকে যা আমাদের নজর কাড়ে। এবার ফেনীতে স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ভোট দেওয়ার অভিযোগে বিবি জহুরা (৩২) নামে এক গৃহবধূকে মৌখিক তালাক দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর বাঁশতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই গৃহবধূর স্বামীর নাম ইসমাইল হোসেন কাওসার। তিনি সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফ হাজারীর ছেলে। এ ঘটনার পর বিবি জহরাকে ঘিরে তার বাড়িতে এলাকার অনেক নারী পুরুষের ভীড় চলছে। অন্যদিকে তিন সন্তান নিয়ে জছরা পড়েছেন অনিশ্চিত ভবিষ্যতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে জহরাকে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেন তার স্বামী কাওসার। কিন্তু জহুরা প্রথমবার ভোটার হওয়ায় উচ্ছ্বাস নিয়ে তিন সন্তানকে সঙ্গে করে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন। তখন কাওসার ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোট দিয়ে সকাল ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে স্বামীসহ সবার জন্য খাবার তৈরি করেন। কাওসার ঘুম থেকে উঠে বেলা ১১টার দিকে নাস্তা খান।
এরপর এলাকায় ঘোরাফেরা করে দুপুরে ভাত খেয়ে ফের ঘুমিয়ে পড়েন। বিকেলে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পাশের রাস্তায় গিয়ে কারও থেকে জানতে পারেন তার স্ত্রী ভোট দিতে কেন্দ্রে গেছেন। এ খবর শুনে মাগরিবের সময় স্ত্রীকে ভোটদানের বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন।
একপর্যায়ে কাওসার ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির পাশের রাস্তায় জহরাকে মৌখিকভাবে তিন তালাক দিয়ে তার ঘরে যেতে নিষেধ করেন। তখন আশপাশের লোকজন এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে কাওসারকে আটক করে মারধর করে আটকে রাখেন। একপর্যায়ে জনসমাগম বাড়তে থাকলে বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে কাওসার কৌশলে পালিয়ে যান।
আফছার নামে এক গ্রামবাসী জানান, বিয়ের পর থেকেই জহুরাকে সবসময় মারধর করতেন কাওসার। এ নিয়ে কয়েকবার সামাজিকভাবে বিচারও হয়। কাওসার তার শশুরকেও মারধর করেছেন কয়েকবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াই বাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সঙ্গে বিয়ে হয় কাওসাবের।