গণভোটে স্পষ্ট ‘হ্যাঁ’জয়ী নাকি ‘না’ ??

গণভোটে স্পষ্ট ‘হ্যাঁ’জয়ী নাকি ‘না’  ??
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর ওপর গণভোট। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলা এই গণভোটে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। জাতীয় রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে এই গণভোটকে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সর্বশেষ প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমতের স্পষ্ট প্রাধান্য দেখা গেছে। ঢাকার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের ১০৬টি কেন্দ্রের ফলাফলের ভিত্তিতে জানা গেছে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৬৯ হাজার ৩৪৭টি। বিপরীতে ‘না’ ভোট পড়েছে ১৯ হাজার ৯৪৫টি। এই ব্যবধান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংস্কারপন্থী প্রস্তাবের প্রতি ভোটারদের সমর্থন শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ চূড়ান্তভাবে জয়ী হলে বাংলাদেশের সংবিধানে একাধিক মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের পথ খুলে যাবে। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, উচ্চকক্ষ গঠনের মাধ্যমে সংসদের কাঠামো পরিবর্তিত হবে এবং প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ ও ক্ষমতার সীমা নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ বাড়বে, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন সংস্কারে নতুন অধ্যায় যুক্ত হবে। তবে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিএনপি ভিন্নমত প্রকাশ করেছে।

এই গণভোটের ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীয় ক্ষমতাকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে ভোটাররা ভারসাম্যপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রকাঠামোর দিকে ঝুঁকছেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের পদ আলাদা করার মতো প্রস্তাবগুলো ভবিষ্যতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি মৌলিক অধিকার সুরক্ষা, ইন্টারনেট স্বাধীনতা এবং নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির প্রস্তাবগুলো গণতন্ত্রকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে এসব সংস্কার বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐকমত্য ও আইনগত প্রস্তুতির বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।


সম্পর্কিত নিউজ