{{ news.section.title }}
কত শতাংশ ভোট পড়েছে, জানাল নির্বাচন কমিশন
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় দুই বছর পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হলো দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও জাতীয় সংসদ গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে ছিল বাড়তি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নজরদারি।
নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভোটের হার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের সচিব জানান, সারাদেশে গড়ে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
তিনি আরও জানান, ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত থাকায় ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট চলে এবং বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া বড় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বিএনপি ইতোমধ্যে ২০০টির বেশি আসনে জয়ী হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দ্বিতীয় অবস্থানে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তৃতীয় স্থানে রয়েছে বলে প্রাথমিক ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এবারের নির্বাচনের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রাথমিক হিসেবে প্রায় ৭২ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন।
এই নির্বাচনকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। বিদেশি পর্যবেক্ষকরাও মাঠপর্যায়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে পুরো প্রক্রিয়াকে মোটের ওপর ‘সন্তোষজনক’ বলে মূল্যায়ন করেছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো-২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল, যা ভোটের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলেছে।
ভোটদানের পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এই নির্বাচনকে তিনি ‘নতুন বাংলাদেশের সূচনালগ্ন’ হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের হার ও গণভোটের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে-দেশের রাজনীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তন ও সংস্কারের পথে জনগণের সমর্থন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।