{{ news.section.title }}
জাতীর উদ্দেশ্য যা বললেন জামায়াত আমীর
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
গতোকাল নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকে জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় মনঃক্ষুণ্ন ভাব।নির্বাচনের ফলাফল, ভোট গণণা এবং কাঙ্ক্ষিত আসনে জয় না পেয়ে জামায়াত নেতাকর্মীদের মাঝে শুরু হয় অসন্তোষ।
গতোকাল এবং আজকের সারাদেশের বিভিন্ন ঘটনা এবং নির্বাচন পরবর্তী জাতীর উদ্দেশ্য ফেসবুক পোস্টে বার্তা দেন আজ জামায়াত আমীর ডা.শফিকুর রহমান। হুবহু তার পোস্টটি তুলে ধরা হলো,
প্রিয় সহনাগরিকবৃন্দ,
গত কয়েক মাস ধরে নিরলস পরিশ্রম করা অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের অনেকেই সময়, শ্রম ও বিশ্বাস উৎসর্গ করেছেন। কেউ কেউ কেবল নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার জন্য ভয়ভীতি ও হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন। আপনাদের সাহস আমাদের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করেছে।আমি জানি, আপনাদের অনেকেই কষ্ট পাচ্ছেন এবং গভীরভাবে হতাশ। সেটাই স্বাভাবিক। যখন কেউ একটি উদ্দেশ্যে নিজের হৃদয় উজাড় করে দেন, তখন তার ফলাফলও তিনি গভীরভাবে অনুভব করেন। কিন্তু আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই: আপনাদের প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি। ৭৭টি আসন নিয়ে আমরা আমাদের সংসদীয় উপস্থিতি প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি করেছি এবং আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছি। এটি কোনো পশ্চাদপসরণ নয়। এটি একটি শক্ত ভিত্তি।
ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে রাজনৈতিক ভাগ্য পরিবর্তনশীল। ২০০৮ সালে বিএনপি ৩০টি আসনে নেমে এসেছিল, তারপর ২০২৬ সালে সরকার গঠনে ফিরে আসে একটি যাত্রা, যা ১৮ বছর লেগেছিল। গণতান্ত্রিক রাজনীতি একটি দীর্ঘ পথচলা। আমাদের পথ স্পষ্ট: মানুষের আস্থা অর্জন করা, ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় আনা, এবং দায়িত্বশীলভাবে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।যেকোনো প্রকৃত গণতান্ত্রিক যাত্রায় নেতৃত্বের প্রকৃত পরীক্ষা কেবল আমরা কীভাবে প্রচারণা চালাই তা নয়, বরং জনগণের রায়কে আমরা কীভাবে গ্রহণ করি, তাও। শুরু থেকেই আমরা একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলাম। সেই অঙ্গীকার অটুট রয়েছে। আমরা সামগ্রিক ফলাফলকে স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আইনের শাসনের প্রতি সম্মান জানাই।
আমাদের আন্দোলন কখনোই একটি নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করা, নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষা করা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে পরিচালিত। আমরা একটি সতর্ক, নীতিনিষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করব সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনব এবং একই সঙ্গে জাতীয় অগ্রগতিতে গঠনমূলকভাবে অবদান রাখব।
নীতিনিষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অবিচল থাকবে।