মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে ৬০ এমপি, কে পাচ্ছেন কোন মন্ত্রণালয়

মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে ৬০ এমপি, কে পাচ্ছেন কোন মন্ত্রণালয়
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ।ফলাফল ঘোষণা হয়েগেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠনের পথে বিএনপি। ৪৮ ঘন্টা পার হলেই শপথ গ্রহণ করবেন নির্বাচিত ২৯৭ সাংসদ।নিরঙ্কুশ ২১২টি আসনে জয়লাভ করে সরকার ও মন্ত্রী পরিষদ গঠনের পথে বিএনপি। ভোটের ফলাফলের পর থেকেই শুরু হয়েছে মন্ত্রীর পতাকা কার গাড়িতে উঠবে, কে পাবে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

রাষ্ট্রীয় সূত্রমতে, আগামী সোম-মঙ্গলবার শপথগ্রহণের পরেই মন্ত্রী পরিষদও চুড়ান্ত হয়ে যাবে। বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে। এতে থাকবেন পরীক্ষিত, ত্যাগী ও মেধাবী রাজনীতিকদের পাশাপাশি তরুণ মুখ। কিছু মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রে টেকনোক্র্যাট কোটা ব্যবহার করা হতে পারে। মন্ত্রিসভার আকার সীমিত রাখা হবে; সম্ভাব্য সদস্যসংখ্যা ৩২–৪২ জনের মধ্যে।বর্তমান বাংলাদেশে ৫৮ টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে।সোমবারের মধ্যে প্রায় ৪০ জন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী নির্ধারণ হওয়ার পরে ধীরে ধীরে আরো সংখ্যা বাড়বে বলে একাধিক সুত্র জানিয়েছে জাগরণ নিউজকে।

জানা গেছে, নতুন সরকারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস গৃহায়ন ও গণপূর্ত, ড. খন্দকার আব্দুল মঈন খান তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রণালয়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সালাহউদ্দিন আহমেদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারম্যান খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, আব্দুস সালাম পিন্টু শিল্প মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন, তার পাশাপাশি শামা ওবায়েদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ড. রেজা কিবরিয়া অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদ দ্বিতীয়বারের মতো পেতে পারেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান পাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন, আমান উল্লাহ আমান পেতে পারেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, হাবিবুর রশীদ হাবিব দূর্যোগ ব্যবস্থাপণা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, মাহদী আমিন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (আইসিটি), ববি হাজ্জাজ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, জয়নুল আবদীন ফারুক মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়, আজিজুল বারী হেলাল পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, হুম্মাম কাদের চৌধুরী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির খাদ্য মন্ত্রণালয়, সানজিদা তুলি নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।

সূত্র অনুযায়ী, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। প্রবীণ নেতারা যেমন- ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেতে পারেন। নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমানকে টেকনোক্র্যাট কোটা থেকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

টেকনোক্র্যাট কোটায় আরও থাকতে পারেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবীর, অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, মাহদী আমিন, আমিনুল হক এবং ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। এছাড়া নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের মধ্যে অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির, হাবিবুর রশীদ, শেখ রবিউল আলম, আসাদুল হাবিব দুলু, রকিবুল ইসলাম বকুল, মোহাম্মদ আলী আসগর লবি প্রভৃতি মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান বর্তমানে মন্ত্রিসভার পরিধি ও সদস্যদের বিষয়ে নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা বা 'টেবিল ওয়ার্ক' করছেন, যেখানে প্রবীণদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বের অগ্রাধিকার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই আলোচনার মাঝেই ১১ দলীয় শরীক দল এনসিপিও আলোচনায় রয়েছে বিএনপির মন্ত্রী পরিষদে যাবার বিষয়ে।দলটির পক্ষথেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে ছাত্রনেতাদের মাঝথেকে কাওকে মন্ত্রী পরিষদে নিয়ে আসার।তবে ইতিমধ্যে এনসিপি জানিয়েছে এমন কোনো প্রস্তাব পেলে তার বিষয়ে দলটির নেতিবাচক জবাব থাকতে পারে। সর্বোপরি বিষয়টি দলের উচ্চপর্যায়ে যেয়ে চুড়ান্ত হবে। এছাড়াও অনেকেই মনে করছেন দলটি জোটের সাথে যেয়ে সীদ্ধান্ত গ্রহণ করবে নাকি একক সীদ্ধান্ত গ্রহণ করবে সেটি সময় এলে জানা যাবে। ইতিমধ্যে দলটির নির্বাচিত ছয় সাংসদের মধ্যে আলোচনায় নাম রয়েছে সাবেক উপদেষ্টা নাহিস ইসলাম, দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির শীর্ষ এক নেতা জানিয়েছে দলটির পক্ষ থেকে মন্ত্রী পরিষদে যেতে পারেন দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। 


 


সম্পর্কিত নিউজ