কেমন হচ্ছে নতুন মন্ত্রীসভা? যারা আলোচনায়

কেমন হচ্ছে নতুন মন্ত্রীসভা? যারা আলোচনায়
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছে বিএনপি। আগামীকাল বা পরশু হতে পারে শপথ গ্রহণ।দাওয়াত দেওয়া হয়েছে ১৩ দেশের সরকার প্রধানকে।বর্তমানে প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু হলো মন্ত্রীসভা।কারা থাকছেন মন্ত্রী সভায়, কতেজন নতুন মুখের দেখা মিলবে, কে কোন দায়িত্বে থাকবে, কতো বড় হবে মন্ত্রীসভা এসব আলোচনায় এখন তুঙ্গে।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এবারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণ ও মেধাবীদের প্রাধান্য থাকবে। বয়োজ্যেষ্ঠ অনেক নেতাকে মন্ত্রিসভায় না-ও দেখা যেতে পারে। পুরো দেশ ও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। সুত্রমতে, এবারের মন্ত্রীসভা হবে অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের শক্তি নির্ভর।পুরোনো মুখগুলো যেমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন তেমনি নতুন মুখগুলোরও দেখা মিলবে এই সভায়।দলীয় সভা থেকে দলটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আলোচনা হয়েছে্।নজরুল ইসলাম খান এবারের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে ছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এজেডএম জাহিদ পেতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। অভিজ্ঞতা এবং দলে অবস্থান অনুযায়ী দলটির সুত্র বলছে তিনি পেতে পারেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। কৃষি ও খাদ্য সেক্টরের বড় উদ্যোক্তা আবদুল আউয়াল মিন্টু পেতে পারেন কৃষি বা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। 

অভিজ্ঞদের তালিকায় দলটির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যেমন রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে আলোচনায় আছেন তেমনি তিনি পেতে পারেন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর(অব.)হাফিজ উদ্দীন,মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ, ড.মঈন খান, সালাউদ্দিন আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের বিষয়ে এসব নেতার নাম উঠে এসেছে।মন্ত্রী পরিষদের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে তারা অবগত আছেন বলে দলের বিভিন্ন সুত্র নিশ্চিত করেছেন। সংখ্যালঘু ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে থেকে একাধিকজনকে দেখা যাবে যাবে মন্ত্রীসভায়।পার্বত্য অঞ্চল থেকে একজন এবং একজন প্রবীণ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

জানা গেছে, নতুন সরকারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস গৃহায়ন ও গণপূর্ত, ড. খন্দকার আব্দুল মঈন খান তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রণালয়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সালাহউদ্দিন আহমেদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারম্যান খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, আব্দুস সালাম পিন্টু শিল্প মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন, তার পাশাপাশি শামা ওবায়েদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ড. রেজা কিবরিয়া অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদ দ্বিতীয়বারের মতো পেতে পারেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান পাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন, আমান উল্লাহ আমান পেতে পারেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, হাবিবুর রশীদ হাবিব দূর্যোগ ব্যবস্থাপণা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, মাহদী আমিন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (আইসিটি), ববি হাজ্জাজ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, জয়নুল আবদীন ফারুক মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়, আজিজুল বারী হেলাল পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, হুম্মাম কাদের চৌধুরী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির খাদ্য মন্ত্রণালয়, সানজিদা তুলি নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।

টেকনোক্র্যাট কোটায় আরও থাকতে পারেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবীর, অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, মাহদী আমিন, আমিনুল হক এবং ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। এছাড়া নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের মধ্যে অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির, হাবিবুর রশীদ, শেখ রবিউল আলম, আসাদুল হাবিব দুলু, রকিবুল ইসলাম বকুল, মোহাম্মদ আলী আসগর লবি প্রভৃতি মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।

আলোচনায় আন্দোলনের শরিকরা: ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলো নিয়ে জাতীয় সরকারের ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। ফলে নতুন মন্ত্রী পরিষদে থাকছে যুগপৎ আন্দোলনের একাধিক নেতা। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা একসঙ্গে ছিল, সরকার গঠন প্রক্রিয়াতেও তাদের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা হবে। অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল কাঠামোর মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণই হবে এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এদের মধ্যে রয়েছে-সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দেওয়া ড. রেজা কিবরিয়াকে অর্থ মন্ত্রণালয়, এনডিএম ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর এবং টেকনোক্র্যাট কোটায় ১২ দলীয় জোট প্রধান ও জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার আলোচনায় রয়েছে

নারীদের মধ্যে থেকে একাধিক জন এবারের মন্ত্রীসভায় দায়িত্ব পাচ্ছেন। আলোচনায় রয়েছে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং মানিকগঞ্জ, সিলেট ও ফরিদপুর থেকে সামা ওবায়েদ্। তরুণদের যেমন সংসদে আসার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে তেমনি মন্ত্রীসভায় থাকবে একাধিক তরুণ মুখ।দলটির ভাষ্যমতে ১০ জন আলোচনায় রয়েছে।চট্টগ্রাম, পঞ্চগড়,নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা থেকে এসব নেতাদের মনোনিত করা হবে। মন্ত্রী পরিষদ বড় না হলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হবে আন্তর্জাতিক কিছু মুখকে।উপদেষ্টা,বিশেষ সহকারী এবং প্রেস উইংয়ের আকার হবে অন্যান্যবারে তুলনায় কিছুটা বড়। দলটির পক্ষথেকে জানানো হয়, এবারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থাকবে কর্মব্যস্ত। কক্সবাজার-১ আসনের পুণরায় নির্বাচিত সাংসদ সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন নতুন মন্ত্রী সভার সকলের নাম জানতে আর মাত্র কিছু সময় আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।


সম্পর্কিত নিউজ