কক্সবাজারে নির্বাচনে ৫৫ শতাংশ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন

কক্সবাজারে নির্বাচনে ৫৫ শতাংশ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ১৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জন তাঁদের নির্বাচনী জামানত হারিয়েছেন। বিজয়ী ও তাঁদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া অন্য প্রার্থীরা মোট বৈধ ভোটের এক অষ্টমাংশের কম ভোট পাওয়ায় তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।

জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের অন্তত এক অষ্টমাংশ (১/৮) অর্জন করতে না পারলে তাঁর জমাকৃত জামানত রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়। সেই বিধান অনুসারেই কক্সবাজারের চারটি আসনে ১০ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

নির্বাচন শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান চার আসনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ করেন। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে মোট তিনজন প্রার্থী অংশ নেন। এখানে প্রদত্ত ভোট ছিল ৩ লাখ ৬২ হাজার ৪৩৭। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ৪৫ হাজার ৩০৪ ভোট। বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী সালাহউদ্দীন আহমদ ও তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল্লাহ আল ফারুক ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সারওয়ার আলী কুতুবী পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২৮ ভোট। ফলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে মোট ভোট পড়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৭০৯। জামানত টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন ছিল অন্তত ২৯ হাজার ৮৮ ভোট। এখানে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জিয়াউল হক পেয়েছেন ৮ হাজার ৭৯৯ ভোট, জাতীয় পার্টির মো. মাহমুদুল হক ৭৫৭ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদের এস এম রোকনুজ্জামান খান পেয়েছেন ১৯৭ ভোট। ফলে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারাচ্ছেন।

কক্সবাজার-৩ (সদর–রামু–ঈদগাঁও) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ছয়জন প্রার্থী। এখানে মোট প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫৯৪। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ৪৪ হাজার ৫৭৪ ভোট। বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শহীদুল আলম বাহাদুর ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৫ হাজার ১৪৯ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া ৯৪৭ ভোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টির জগদীশ বড়ুয়া ৬০২ ভোট এবং আমজনতা দলের নুরুল আবছার ৩৬৭ ভোট। এ চার প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনে মোট ভোট পড়ে ২ লাখ ৫৫ হাজার ২৩১। এখানে জামানত টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন ছিল ন্যূনতম ৩১ হাজার ৯০৩ ভোট। চার প্রার্থীর মধ্যে বিজয়ী ও তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুল হক পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৩৮ ভোট এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাইফুদ্দিন খালেদ পান ৩৭৯ ভোট। ফলে তাঁদের জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

জেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিধি অনুসারে বাজেয়াপ্ত হওয়া সব জামানতের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।


সম্পর্কিত নিউজ