{{ news.section.title }}
বগুড়া-৬ এ কারা লড়ছেন? উপনির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ
বগুড়া-৬ (সদর) আসন শূন্য ঘোষণার পরপরই এলাকাজুড়ে উপনির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে দল কাকে প্রার্থী করবে - তা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
জেলা বিএনপির বিভিন্ন সূত্রে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও স্থানীয় পর্যায়ে একটি অংশের প্রত্যাশা, আসনটি যেন জিয়া পরিবারের কাউকে দেওয়া হয়। দলীয় অভ্যন্তরে আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, তাঁর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি।
এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাও মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, আলী আজগর তালুকদার হেনা এবং সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু।
ভোটারদের প্রত্যাশা: বড় নাম নয়, কার্যকর নেতৃত্ব
বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকায় কথা হয় কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে। ব্যবসায়ী মোজাফফর হোসেন বলেন, দল এখন ক্ষমতায়, তাই এমন একজন এমপি দরকার যিনি বড় উন্নয়ন প্রকল্প আনতে পারবেন। তাঁর ভাষায়, বগুড়া দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল, এখন কাজ করার সময়।
কলেজছাত্র রাকিব ইসলাম বলেন, বড় নামের চেয়ে কাজের মানুষ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তরুণদের কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
অটোরিকশাচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নির্বাচনের আগে নেতারা এলাকায় আসেন, পরে আর দেখা যায় না - এমন অভিজ্ঞতা বহুবার হয়েছে। এবার তিনি চান এমন একজন প্রতিনিধি, যিনি নিয়মিত এলাকায় থাকবেন এবং মানুষের সমস্যা শুনবেন।
নারী ভোটার জাহানারা বেগম বলেন, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা - এই তিনটি খাতে কাজ করতে পারবে এমন এমপি প্রয়োজন। শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে মানুষের সমস্যা সমাধান হবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে নেতৃত্বের পরীক্ষা
ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর গফুর মনে করেন, সরকার গঠনের পর এটি হবে প্রথম উপনির্বাচন, যা বিএনপির নেতৃত্ব নির্বাচনের কৌশল বোঝার একটি বড় ইঙ্গিত দেবে। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী নিজে এই আসন ছেড়ে দেওয়ায় যিনি প্রার্থী হবেন, তিনি কার্যত সরকারের মুখ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
জামায়াতের অবস্থান এখনো অনিশ্চিত
এদিকে, আসন্ন উপনির্বাচনে অংশ নেবে কি না - এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। দলের বগুড়া শহর আমির আবিদুর রহমান সোহেল জানিয়েছেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পর্যালোচনায় রয়েছে এবং সিদ্ধান্ত হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আসনের রাজনৈতিক ইতিহাস
বগুড়া-৬ আসন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারবার এখান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলে জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে বিজয়ী হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তবে তিনি শপথ না নেওয়ায় উপনির্বাচনে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ জয়ী হন। পরবর্তীতে তাঁর পদত্যাগের পর অনুষ্ঠিত আরেক উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের রাগেবুল আহসান বিজয়ী হন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনেও আসনটি ধরে রাখেন।
২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হন। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আবিদুর রহমান।
সামনে বড় সমীকরণ
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, জামায়াতের ভোট বিবেচনায় নিলে জিয়া পরিবারের বাইরে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে বিজয় কঠিন হতে পারে। ফলে বিএনপি কাকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেয় - তা শুধু বগুড়ার নয়, জাতীয় রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।