কোথা থেকে আসবে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা? কারা পাবেন

কোথা থেকে আসবে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা? কারা পাবেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে বিএনপির প্রধান আকর্ষণ ছিলো ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড। নির্বাচনী জয়লাভ করে সরকার গঠন করার আজ দ্বিতীয় সপ্তাহ চলমান বিএনপি সরকারের। প্রথম সপ্তাহেই বিএনপি সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালুর ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী আগামী মার্চ মাসের ১০ তারিখ থেকে পরীক্ষামুলকভাবে চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড প্রোগ্রাম। প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ডের অনুকুলে দেওয়া হবে ২৫০০ টাকা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে দেশের একটি উপজেলায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ জানিয়েছেন এখন আপাতত অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে থোক বরাদ্দ নেওয়া হবে। তবে আগামী বাজেট থেকে এ খাতে নিয়মিত অর্থ বরাদ্দ থাকবে বলে জানিয়েছেন। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যারা ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবে তারা কার্ড পাওয়ার পর প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। অনুদানের এই অর্থ সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

একটি ফ্যামিলি কার্ডে প্রতি পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য বিবেচনায় নেওয়া হবে। তবে একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে প্রতি পাঁচজনের জন্য আলাদা কার্ড দেওয়া হবে।এছাড়া একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা পাবেন না, তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাপ্য সুবিধা পাবেন। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও'র নেতৃত্বে এবং ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি এই কার্যক্রম পরিচালনা করবে। "তদারকির জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া ভুলত্রুটি এড়াতে 'দ্বিস্তর বিশিষ্ট' চেকিং ও রি-চেকিং ব্যবস্থা থাকবে," ব্রিফিংয়ে বলেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

ফ্যামিলি কার্ড প্রথম দফায় যাদের দেওয়া হবে তাদের কীভাবে বাছাই করা হচ্ছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, "বাছাই করা হচ্ছে না। ইনফরমেশন কালেক্ট করা হচ্ছে প্রতিটি ডোর-টু-ডোর স্টেপস অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে। কোনো অবস্থাতেই ঘরে বসে কোনো বাছাই হবে না"। কারা পাবেন এই কার্ড:এখন একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ১৪টি উপজেলা থেকে একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডকে বাছাই করা হচ্ছে এবং সেই ওয়ার্ডের প্রতি পরিবারের একজন নারী এই কার্ড পাবেন। "এই কার্ডের সুবিধা পাবেন পরিবারের মা বা নারী প্রধান। এর মাধ্যমে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে এবং পুরো পরিবার ও আগামী প্রজন্ম এর সুফল পাবে। আগামী চার মাসে পাইলটিং কাজ শেষ হবে। এরপর প্রতিটি উপজেলায় এর আওতায় আসবে," বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে বলেছেন মি. হোসেন। সরকারের এখনকার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একটি ওয়ার্ডে যে কতজন এই কার্ড পাওয়ার উপযুক্ত হবেন তাদের সবাইকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এজন্য মাঠপর্যায় থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মূলত হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মায়েরা এই সুবিধা পাবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে যাচাই বাছাই করে এ তিন ধরনের পরিবার থেকে কার্ড গ্রহীতাদের নাম নিশ্চিত করা হবে।


সম্পর্কিত নিউজ