{{ news.section.title }}
গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে মির্জা আব্বাস, হলেন সভাপতি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস এবার পেলেন আরো একটি দায়িত্ব। মন্ত্রী পরিষদ গঠনের সময় অনেকেই তাকে মন্ত্রী পদে দেখার অপেক্ষায় থাকলেও মন্ত্রী পরিষদে স্থান না হওয়া এই সাংসদকে পরবর্তীতে মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা নিয়োগ দেন। এর এক সপ্তাহে না যেতেই আরো একটি দায়িত্ব পেলেন মির্জা আব্বায়। খাল খনন কর্মসূচি সেলের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মির্জা আব্বাসকে।
দেশজুড়ে নদী, খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৮ সদস্যের একটি সেল গঠন করেছে সরকার। ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সেলের কার্যক্রম সারা দেশে পরিচালিত হবে। ৮ সদস্যের সেলের সভাপতি করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদকে। এর বাইরে সদস্য হিসেবে থাকবেন ভূমি, কৃষি, স্থানীয় সরকার, পানি সম্পদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবরা। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক সদস্য হিসেবে যুক্ত থাকবেন। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে করা হয়েছে সদস্য সচিব।
সেলের কর্মপরিধি:
১। নদী-নালা-খাল, জলাধার খননের বৎসরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন;
২। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার আওতায় চলমান/বাস্তবায়নযোগ্য নদী-নালা-খাল খনন প্রকল্প/প্রোগ্রামের মধ্যে সমন্বয় সাধন;
৩। নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন কর্মসূচির পরিবীক্ষণ ও উদ্ভুত সমস্যা সমাধানে দিকনির্দেশনা প্রদান;
৪। নদী-নালা-খাল খনন কর্মসূচিকে জনসম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ;
৫। খাল খনন কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম গ্রহণ।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সেলটি নদী-খাল-জলাশয় খননের জন্য কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে। বিভিন্ন সংস্থার চলমান প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় করবে। খনন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সমস্যা সমাধানে দিকনির্দেশনা দেবে। পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে প্রচারের উদ্যোগ নেবে। এতে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজন হলে সেলের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সেলে নতুন সদস্য যোগ করতে (কো-অপ্ট করতে) পারবেন। সেলের কাজ চালাতে যেসব দাপ্তরিক সুবিধা দরকার, এই সেলকে সেসব সচিবালয় সহায়তা দেওয়া হবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। সেলের প্রধান দায়িত্ব হবে নদী-নালা-খাল ও জলাধার খননের বছরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনার আওতায় খনন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন সংস্থার অধীনে চলমান ও বাস্তবায়নযোগ্য নদী-নালা-খাল খনন প্রকল্প ও কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে সেলটি। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতা দূর হবে এবং সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল-পুকুর-জলাশয় খনন-পুনঃখনন কর্মসূচি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা খাল ও আঁটি খাল পুনঃখনন এবং খালের উভয় পাড়ের সুরক্ষা কাজ পরিদর্শনকালে এক বক্তৃতায় এ কথা জানান মন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী খালের দখল-দূষণ প্রতিরোধে উদ্যোগ নেওয়া হবে। অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে খাল পুনরুদ্ধার করে হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে। খাল পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি খালের পাড় সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বৃক্ষরোপন ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে। খাল খনন, উন্নয়ন ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে কাজে লাগিয়ে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিতে হবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ওনার জীবদ্দশায় এই কর্মসূচিটা (খাল খনন) বাংলাদেশে একটা মহা-বিপ্লবে পরিণত করেছিলেন। তো দীর্ঘদিন থেকে আমরা দেশবাসী ভুক্তভোগী যে খাল খননও নেই এবং এই যে জলাবদ্ধতা অথবা জলাশয়ে কোনো পানি নাই, সেচের ব্যবস্থা নেই- সবকিছু থেকে দেশবাসী আমরা বঞ্চিত। তিনি বলেন, এবার নির্বাচনি ইশতেহারে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে থেকেই বারবার এই কথাটা উল্লেখ করেছেন এবং খাল খনন প্রক্রিয়াটাকে পুনঃখনের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে নিয়ে আসবেন, আমরা যেন দেশের মানুষ সুবিধাটা পাই।