{{ news.section.title }}
আওয়ামিলীগের হামলায় ২ বিএনপি নেতা নিহত
বিএনপি সরকার গঠনের দুই সপ্তাহ না যেতেই উল্টো বিএনপির উপরই হামলা! ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে। একটু খাস পুকুর দখল করাকে কেন্দ্র করে আওয়ামিলীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে সংঘর্ষ হলে এতে বিএনপির দুই কর্মী নিহত হয়। নিহতরা হলেন ইসমাইল (৭০), আব্দুস সালাম (৬০)।
সোমবার ২ মার্চ সকালে ধামরাই নগর ইউনিয়নে গোয়ালপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, গোয়ালপাড়া গ্রামের ৫ বিঘা আয়তনের একটি খাস পুকুর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ সমর্থক আছমত আলী ও ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কার সিদ্দিকের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। আছমত আলী বিগত ১৫/১৬ বছর ধরে গোয়ালপাড়া মসজিদের নামে লিজ নিয়ে পুকুরটি চাষাবাদ করে আসছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপি নেতা আবু বক্কার সিদ্দিক ৩ বছরের জন্য পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন। সোমবার সকালে আবু বক্কার সিদ্দিক তার লোকজন নিয়ে মাছ ধরার জন্য পুকুরে জাল ফেললে আছমত আলীর লোকজন এসে বাধা দেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় হাসুয়া, দা, লাঠিসোটা নিয়ে উভয়পক্ষ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চারজন ও বিএনপি সমর্থিত সাতজন গুরুতর আহত হন।
৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুপুর ২টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইসমাইল হোসেন এবং সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুস সালাম মারা যান।
এ বিষয়ে ধামাইনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রমজান আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটি আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা চাষাবাদ করতো। ৫ আগস্টের পর আবু বক্কার সিদ্দিক পুকুরটি লিজ নিলেও সেখান থেকে মাছ ধরতে দেয়নি আছমত আলী গং। আজকে সকালে আবু বক্কার সিদ্দিকের লোকজন মাছে ধরতে গেলে আওয়ামী লীগের লোকজন হামলা করে দুজনকে মেরে ফেলেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পলাতক থাকায় এ বিষয়ে কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শামসুল আলম বলেন, “নিহত দুজনই আমাদের সক্রিয় কর্মী। দীর্ঘদিনের দখলবাজি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই এই হামলা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, হাসপাতালে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেলে হয়তো একজনের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হতো। তবে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ নাকচ করেছেন সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আকিকুন নাহার। তিনি বলেন, “রোগীকে হাসপাতালে আনার আগেই তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। মারপিটের আঘাতে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তারপরও আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।”
একই পুকুরকে কেন্দ্র করে ২০০৭ সালেও এক ব্যক্তি নিহত হন। সরকারি খাস সম্পদ ঘিরে বারবার প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের সজন ও এলাকাবাসীর দাবি, প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক