{{ news.section.title }}
ঢাবিতে পথশিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে এক পথশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের পাশের ফুটপাতে ঘটেছে এই ঘটনা। পরে তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
বুধবার (৪ মার্চ) রাতের এ ঘটনাকে ‘কলঙ্কময় রাত’ বলে উল্লেখ করেছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পুরো ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন।
তার পোস্টে বলা হয়, আটক যুবকের নাম মাহবুবুর রহমান। তিনি পাশের পলাশী মার্কেটে দুধ সরবরাহের কাজ করেন। অভিযোগ রয়েছে, রাতের দিকে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলসংলগ্ন ফুটপাতে থাকা এক পথশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। বিষয়টি টের পেয়ে আশপাশে থাকা শিক্ষার্থীরা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের সহায়তায় অভিযুক্তকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক কয়েকজন শিক্ষার্থী ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমাকে বিষয়টি ফোন করে জানান। খবর পেয়ে তিনিও থানায় উপস্থিত হন।
সর্ব মিত্র চাকমা জানান, থানায় নেওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কথা স্বীকার করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেন, ‘শয়তানের প্ররোচনায়’ এমন কাজ করতে গিয়েছিলেন এবং কীভাবে তিনি এমন অবস্থায় পৌঁছালেন, তা নিজেও বুঝতে পারছেন না।
এদিকে ঘটনার পর শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সর্ব মিত্র চাকমা বলেন, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অনেক সময় সরাসরি বা দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি কথোপকথনে ঘটনার কথা স্বীকার করলেও তা আইনি দৃষ্টিতে সব সময় শক্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয় না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মামলার খরচ, আইনি জটিলতা এবং দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার কারণে অনেক সময় ভুক্তভোগী বা তাদের পক্ষ থেকে কেউ বাদী হতে আগ্রহ দেখান না। এ ঘটনায়ও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফলে আনুষ্ঠানিক মামলা না করে অভিযুক্তের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পথশিশু ও অসহায় মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে রাতের সময় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মনে করছেন, ক্যাম্পাসে প্রায়ই পথশিশু ও ভাসমান মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে ক্যাম্পাস এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে কি না-সে দিকেও নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।