{{ news.section.title }}
বিএনপি পন্থী প্রশাসককে জনরোশে ফেলতে মিথ্যা তথ্য এজাজের!
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)-এর তহবিলের প্রকৃত অবস্থা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি জানান, দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় সাবেক প্রশাসক যে পরিমাণ অর্থ থাকার দাবি করেছিলেন, বাস্তবে পরিস্থিতি তার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
শুক্রবার (৬ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ দায়িত্ব নেওয়ার পর উচ্চাভিলাষী নানা প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে করপোরেশনের সাধারণ তহবিল থেকে ব্যাপক অর্থ ব্যয় করা হয়। এর ফলে নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি সাধারণ তহবিলে মাত্র ২৫ কোটি টাকার নগদ স্থিতি পান, যা ডিএনসিসির ইতিহাসে অন্যতম সর্বনিম্ন বলে দাবি করেন তিনি।
প্রশাসক জানান, ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল সাধারণ তহবিল থেকেই পরিশোধ করা হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় সাধারণ তহবিলে নগদ ছিল ২৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি বিভিন্ন নির্দিষ্ট তহবিলের ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে ৮২৫ কোটি টাকা সংরক্ষিত ছিল, যা জরুরি পরিস্থিতিতে দায় মেটানোর জন্য রাখা হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৩–২৪ অর্থবছর শেষে ২০২৫ সালের ১ জুলাই ডিএনসিসির সাধারণ তহবিলে ৫৯৭ কোটি টাকা ছিল এবং বিভিন্ন তহবিলের ফিক্সড ডিপোজিট ছিল ৮২৫ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরে রাজস্ব আদায় হয় ১ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা। ফলে ওই সময় মোট নগদ প্রবাহ দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা।
এরপর ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ দায়িত্ব নেওয়ার পর বড় আকারের বাজেট প্রণয়ন করে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেন। ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হয় ১ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। ফলে ওই সময় শেষে নগদ স্থিতি কমে দাঁড়ায় ৩৩৬ কোটি টাকায়।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ডিএনসিসির রাজস্ব আদায় হয় ৮২০ কোটি টাকা। এতে ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি নগদ স্থিতি দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা।
কিন্তু শফিকুল ইসলাম খানের দাবি, সাবেক প্রশাসক আবারও বেশ কিছু অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল অর্থ ব্যয় করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। এর ফলে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের সময় সাধারণ তহবিলে মাত্র ২৫ কোটি টাকা অবশিষ্ট পান।
প্রশাসক বলেন, সাবেক প্রশাসক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকার হিসাব তুলে ধরেছেন, সেটি প্রকৃতপক্ষে বিভিন্ন তহবিলের অর্থ একত্র করে দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৮২৫ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট এবং করপোরেশনের বিভিন্ন নির্দিষ্ট তহবিল-যেমন জামানত তহবিল, পেনশন তহবিল, শিক্ষা তহবিল ও জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (জিপিএফ)-এর চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবে থাকা প্রায় ৪৩৫ কোটি টাকা। এসব অর্থ একত্র করে মোট অর্থের পরিমাণ দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শফিকুল ইসলাম খান আরও জানান, সাবেক প্রশাসক দায়িত্ব ছাড়ার আগে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাধারণ তহবিলের অবস্থা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা না করে তড়িঘড়ি করে ৩৬টি বিল অনুমোদন করে যান। এসব বিলের মাধ্যমে প্রায় ৪২ কোটি টাকা বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ওই নথিগুলো যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে এবং প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন যথাযথভাবে হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, করপোরেশনের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরা জরুরি। নগরবাসীর মধ্যে যেন কোনো বিভ্রান্তি না থাকে, সে কারণেই বিষয়টি স্পষ্ট করতে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।