{{ news.section.title }}
জ্বালানি তেলের দূর্ভোগ নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমীর
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে মানুষের দুর্ভোগের প্রেক্ষাপটে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (৯ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার এবং অপ্রয়োজনে জ্বালানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকারও অনুরোধ করেছেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে জামায়াত আমির বলেন, আজ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় জ্বালানি তেল নিতে মানুষের যে দুর্ভোগের ছবি দেখা যাচ্ছে- কিলোমিটারের পর কিলোমিটার লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা- তা সত্যিই খুব কষ্টের। রোজা রেখে অনেক মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, কারও গাড়ির তেল একেবারে শেষ হয়ে গেছে। এই সংকট শুধু সাধারণ মানুষের যাতায়াতেই নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার ওপরও প্রভাব ফেলছে। সামনে ঈদের যাত্রা শুরু হবে- এই পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে মানুষের ঈদযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
আমরা এর আগেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলাম দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহের উদ্যোগ নিতে। কিন্তু পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। তাই সরকারের প্রতি আবারও অনুরোধ থাকবে- দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদার ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক। দেশবাসীর প্রতিও অনুরোধ, এই সময়ে ধৈর্য ধরুন এবং অপ্রয়োজনে জ্বালানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই সংকট থেকে উত্তরণের তাওফিক দিন।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এতদিনেও কোনো পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি সংকট হয়নি। হয়তো কিছু জায়গায় অপেক্ষা করতে হয়েছে, কিন্তু সরবরাহ বন্ধ হয়নি। এখনো জ্বালানির দামও বাড়েনি। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের এই উদ্বেগ কমে যাবে।
জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, গতকাল প্রায় ৩০ হাজার টন জ্বালানি নিয়ে দুটি জাহাজ আসার কথা ছিল। এর মধ্যে একটি পৌঁছেছে এবং আরেকটি আউটার অ্যাঙ্করেজে রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে সেটি থেকে জ্বালানি খালাস শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ১২ তারিখে আরও একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।
দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে অতীতেও কোনো সংকট ছিল না, এখনো নেই। রমজান ও ঈদকে নির্বিঘ্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। ভারত থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়েও এত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে একটি পাইপলাইন চুক্তির আওতায় প্রতি মাসে গড়ে ১৫ হাজার টন জ্বালানি আসার কথা রয়েছে। এর একটি বড় অংশ এরইমধ্যে এসেছে এবং বাকি অংশ ধারাবাহিকভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই সরবরাহ চুক্তি প্রতি বছর নবায়ন হয় এবং বর্তমানে এর মেয়াদও রয়েছে। ফলে এ নিয়ে কোনো সংকট নেই।
জ্বালানি সহায়তা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার শুধু চীন নয়, এ পণ্য সরবরাহকারী অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এজন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। জ্বালানি নিরাপত্তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যেখানে সুযোগ আছে, সেখানেই আমরা সহযোগিতা চাইছি। এদিকে বৈঠক শেষে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, জ্বালানি সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করবে এবং এ খাতে সহযোগিতা জোরদার করা হবে। তিনি জানান, চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে চীন সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়—এমন প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে।