{{ news.section.title }}
একসাথে চীন ও ভারতের কুটনৈতিকের সাথে বিএনপির বৈঠক! আলোচনায় যা ছিল
দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, অতীতে জ্বালানি খাতে কিছু চুক্তি অসম ছিল। ভবিষ্যতে দেশের স্বার্থ রক্ষা নিশ্চিত করে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সোমবার (১৬ মার্চ) সচিবালয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় কুমার ভার্মার সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিতুমীর বলেন, আগের সরকার অর্থনীতিকে দুর্বল অবস্থায় রেখে গেছে। অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন প্রাণশক্তির প্রয়োজন। এ জন্য সরকার ঋণনির্ভরতা থেকে বের হয়ে বিনিয়োগভিত্তিক প্রবৃদ্ধির পথে এগোতে চায়।
তিনি জানান, ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা চলছে। বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং রাজস্ব আয় বাড়বে। সেই রাজস্ব থেকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য জনসেবামূলক খাতে আরও বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে। ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের চলমান প্রকল্প এবং ভারতের দেওয়া লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। অতীতে নেওয়া প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে মূলত শিল্পায়নভিত্তিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য বড় হলেও এখন প্রয়োজন শিল্পখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ঋণের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে বিনিয়োগের সংস্কৃতির দিকে এগোতে চায়। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্যে প্রায় ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়েছে। বৈঠকে চীনা সরকার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা বা ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সম্ভাবনাও আলোচনা হয়েছে।
বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট আশ্বাস পাওয়া গেছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিতুমীর বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার ভিত্তিতে এগিয়ে যায়। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে। সরকার এমন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চায়, যা দীর্ঘমেয়াদে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে সহায়ক হবে।