আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের আলো, একটি পা হারিয়েও কর্মসংস্থানদাতা সৈয়দ নূর!

আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের আলো, একটি পা হারিয়েও কর্মসংস্থানদাতা সৈয়দ নূর!
ছবির ক্যাপশান, পাঁচজনের কর্মসংস্থানদাতা সৈয়দ নূর

পা হারানো নুরের পাশে দাড়িয়েছে জনপ্রিয় ফাউন্ডেশন আস সুন্নাহের সহযোগিতায় বদলে গেছে নুরের ভাগ্য। অসহায় নুরের কপালের দুঃখের ভার কমলো এবার।

একটি পা হারিয়েও আজ পাঁচজনের কর্মসংস্থানদাতা সৈয়দ নূর, সেই সাথে নিজের মাসিক উপার্জন ২৫-৩০ হাজার টাকা। ২০১০ সালে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিজের একটি পা হারিয়েছিলেন কক্সবাজারের রামু উপজেলার থোয়াঙ্গাকাটা গ্রামের সৈয়দ নূর।  আমাদের সমাজের প্রেক্ষাপটে শরীর থেকে একটা অঙ্গ হারিয়ে যাওয়া মানেই যেন জীবনের সমাপ্তি। কিন্তু সৈয়দ নূর ছিলেন অন্য ধাতুতে গড়া। হার মানাটা তার অভিধানে ছিল না।

পাহাড়ের পাদদেশে সরকারি জায়গায় জরাজীর্ণ এক ঘরে স্ত্রী, সন্তান আর বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে তার বসবাস। জীবন যেখানে প্রতি মুহূর্তে যুদ্ধের নাম, সেখানে ক্রাচে ভর দিয়ে প্রতিদিন অন্যের দোকানে কাজ করতে যেতেন তিনি।  মনে স্বপ্ন ছিল একটি ছোট্ট দোকানের—যেখানে তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করবেন। কিন্তু অভাবের সংসারে সেই স্বপ্ন ছিল যেন আকাশকুসুম কল্পনা। এই কঠিন বাস্তবতা বদলে যায় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ছোঁয়ায়। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে দক্ষতাভিত্তিক উদ্যোক্তা প্রকল্প থেকে তাকে দুই ধাপে মোট ২ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়। আর এই অর্থই হয়ে ওঠে তার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রধান অস্ত্র। সেই দুই লক্ষ টাকা পুঁজি দিয়ে সৈয়দ নূর গড়ে তোলেন নিজের একটি দোকান। 

আজ তিনি শুধু একজন সাধারণ দোকানি নন, বরং একজন সফল উদ্যোক্তা।  প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি এখন এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছেন যে, তার দোকানে এখন আরও ৫ জন মানুষ কাজ করছেন। প্রত্যেক কর্মচারীকে তিনি মাসে গড়ে ২০,০০০ টাকা করে বেতন দিচ্ছেন। যিনি একসময় অন্যের দোকানে কাজ করতেন, আজ তিনি পাঁচজন মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতা যে মানুষের সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না, সৈয়দ নূর তার জীবন্ত প্রমাণ।  এভাবেই আপনাদের দেওয়া যাকাতের অর্থে সারা দেশের হাজারো সৈয়দ নূরের কান্না মুছে যাচ্ছে। মলিন মুখে ফুটছে সফলতার হাসি।

লিখেছেন: আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন 


সম্পর্কিত নিউজ