{{ news.section.title }}
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে দেশের যেসব স্থানে হচ্ছে ঈদ উদ্যাপন
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদ উদ্যাপন করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের ধর্মীয় প্রথা অনুসরণ করে এসব এলাকার মুসল্লিরা এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের নামাজ আদায় করেন এবং পরস্পরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। নামাজ শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশের সার্বিক কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
চট্টগ্রামে শতাধিক গ্রামে ঈদ
দক্ষিণ চট্টগ্রাম-এর আনোয়ারা, বাঁশখালী ও সাতকানিয়াসহ শতাধিক গ্রামে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদ্যাপন করা হয়েছে। মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন।
এখানে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রধান জামাতে ইমামতি করেন দরবারের বর্তমান সাজ্জাদানশিন।
ঈদ উদ্যাপন প্রসঙ্গে মির্জাখীল দরবার শরিফের মোহাম্মদ মছউদুর রহমান বলেন,
‘নিকটবর্তী অঞ্চলসমূহে চাঁদ দেখার সময়ের ব্যবধান, ভৌগোলিক অবস্থান (দ্রাঘিমাংশ ও অক্ষাংশ) এবং মক্কা-মদিনাসহ আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে আমরা শুক্রবার ঈদ উদ্যাপন করছি।’
সাতক্ষীরায় গ্রামজুড়ে উৎসব
সাতক্ষীরা জেলার প্রায় ২০–২৫টি গ্রামে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদ উদ্যাপন করা হয়। সকাল ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা এতে অংশ নেন।
বাউকোলা পূর্বপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মহাব্বত আলী বলেন,
‘আমরা রমজান মাসের চাঁদ দেখে রোজা থাকি এবং শাওয়াল মাসের ১ তারিখে চাঁদ দেখে ঈদের নামাজ আদায় করি। আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ ঈদের নামাজ আদায় করেছি।’
মাদারীপুরে ৩০ হাজার মানুষের ঈদ
মাদারীপুর জেলার প্রায় ২৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ একসঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করেন। প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় চর কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাগর দেওয়ান জানান,
‘পূর্বপুরুষদের প্রথা অনুসারে এই ঈদ উৎসব পালন করা হচ্ছে। বছরে দুটি ঈদ ও রোজা পালন করা হয়। এতে অংশ নেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা।’
নারায়ণগঞ্জে একযোগে নামাজ
নারায়ণগঞ্জ-এর ফতুল্লা এলাকায় সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালিত হয়েছে। লামাপাড়া এলাকায় একটি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত জামাতে আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও মুসল্লিরা অংশ নেন।
সুনামগঞ্জ ও অন্যান্য এলাকায় উদ্যাপন
সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার ১২টি গ্রামে পৃথক সময়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় খানকা শরিফগুলোতে সকাল সাড়ে ৯টা ও ১০টায় নামাজ আদায় করা হয়।
এছাড়াও রাজশাহী, চাঁদপুর এবং জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় একইভাবে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করা হয়েছে।
প্রথার পেছনের কারণ
এসব অঞ্চলের মানুষেরা মূলত চাঁদ দেখার ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেন। অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যের চাঁদ দেখার তথ্যকে গ্রহণযোগ্য ধরে সেই অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালন করেন। আবার কিছু দরবার ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিজস্ব পঞ্জিকা অনুযায়ী দিন নির্ধারণ করে থাকে।
এই প্রথা বহু বছর-কোথাও শতাধিক বছর ধরে চলে আসছে, যা স্থানীয় ধর্মীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।