{{ news.section.title }}
জ্বালানি সংকটে গাইবান্ধায় সব পাম্প বন্ধ
গাইবান্ধা জেলায় হঠাৎ করেই তীব্র জ্বালানি সংকট এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, প্রায় পুরো জেলাজুড়েই থমকে গেছে স্বাভাবিক যান চলাচল। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় একে একে বন্ধ হয়ে গেছে জেলার সাতটি উপজেলার মোট ১৭টি ফিলিং স্টেশন। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক, পরিবহন শ্রমিক এবং জরুরি কাজে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ।
জ্বালানি সংকটে স্থবির পরিবহন
বর্তমানে গাইবান্ধার রাস্তায় আগের মতো যানবাহনের চাপ নেই। মোটরসাইকেল, সিএনজি কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অনেকেই প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও যানবাহন বের করতে পারছেন না শুধুমাত্র জ্বালানি না পাওয়ার কারণে। ফলে জেলার দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে।
বন্ধ হয়ে গেছে সব পাম্প
জেলা জুড়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে একই চিত্র-গেট বন্ধ, ‘তেল নেই’ নোটিশ এবং বাইরে অপেক্ষমাণ হতাশ গ্রাহক। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলার সব ১৭টি পাম্পই কার্যত বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। কোথাও পেট্রোল বা অকটেনের কোনো মজুদ নেই, ডিজেল সরবরাহও প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
চাহিদা ও সরবরাহের বড় ব্যবধান
প্রতিদিন জেলায় যে পরিমাণ জ্বালানি প্রয়োজন, তার তুলনায় সরবরাহ এসেছে অর্ধেকেরও কম। যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার জ্বালানি প্রয়োজন, সেখানে সীমিত সরবরাহে পাম্পগুলো চালু রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে শুরুতে সীমিত পরিসরে বিক্রি চালালেও পরে পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন মালিকরা।
উত্তেজনা থেকে সহিংসতা
সংকট শুধু ভোগান্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, কিছু জায়গায় তা সহিংস রূপও নিয়েছে। শহরের একটি ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের সঙ্গে কর্মচারীদের বিরোধ সৃষ্টি হয়, যা পরে হামলায় রূপ নেয়। এতে অন্তত দুইজন কর্মচারী আহত হন, একজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।
সীমিত বিক্রি থেকেও বন্ধের সিদ্ধান্ত
কিছু পাম্প শুরুতে পরিস্থিতি সামাল দিতে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করছিল। মোটরসাইকেলপ্রতি নির্দিষ্ট অঙ্কের তেল দেওয়া হচ্ছিল, কিন্তু সংকট বাড়তে থাকায় সেই পরিমাণও কমিয়ে আনা হয়। শেষ পর্যন্ত সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাম্পগুলো বন্ধ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
কালোবাজারে বাড়তি দামে তেল
পাম্পে তেল না থাকলেও অভিযোগ উঠেছে, খোলা বাজারে বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্রেতা দাবি করেছেন, বোতলে করে তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা প্রতি লিটার দরে। এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ক্ষোভ বাড়ছে।
সংকটের পেছনে সম্ভাব্য কারণ
পাম্প মালিকদের মতে, একাধিক কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাইরের এলাকা থেকে অতিরিক্ত মোটরসাইকেলের চাপ, আতঙ্কে বেশি তেল সংগ্রহের প্রবণতা এবং চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ-সব মিলিয়ে সংকট তীব্র হয়েছে। তারা বলছেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকলে এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়।
লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফেরা
জেলার বিভিন্ন স্থানে এখনো দেখা যাচ্ছে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, যদি কোনোভাবে তেল পাওয়া যায় এই আশায়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা ফিরে যাচ্ছেন খালি হাতে, যা মানুষের হতাশা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
প্রশাসনের জরুরি উদ্যোগ
সংকট মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে পাম্প মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সেখানে সংকটের কারণ, সরবরাহ বাড়ানোর উপায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রশাসন দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলেও এখনো মাঠপর্যায়ে তার প্রভাব দেখা যায়নি।
বাড়ছে জনদুর্ভোগের আশঙ্কা
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়লে শুধু যাতায়াত নয়, বাজার ব্যবস্থা, পণ্য পরিবহন এবং জরুরি সেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।