{{ news.section.title }}
ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ-অগ্নিসংযোগ
পাবনার ঈশ্বরদীতে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব রীতিমতো সহিংস রূপ নিয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি মিছিল এবং উস্কানিমূলক স্লোগানকে কেন্দ্র করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে হয়েছে, আর এতে পুরো এলাকা কিছু সময়ের জন্য অচল হয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত: মিছিল থেকে মুখোমুখি অবস্থান
ঘটনার শুরু হয় পৃথক দুই পক্ষের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে। এক পক্ষ সংবাদ সম্মেলন শেষে শহরের ভেতর দিয়ে মিছিল নিয়ে ফিরছিল, অন্যদিকে প্রতিপক্ষ একই সময়ে আলাদা কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায় নামে।
পুলিশ আগেই পরিস্থিতি এড়াতে রুট পরিবর্তনের অনুরোধ জানালেও তা মানা হয়নি। ফলে রেলগেট এলাকায় দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয় এবং মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষে।
গুলির শব্দে আতঙ্ক, ছত্রভঙ্গ দুই পক্ষ
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে ৮-১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়া হয়। এতে সংঘর্ষ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় অন্তত ৩০-৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হন বলে জানা গেছে।
সহিংসতার রূপ: আগুন, ভাঙচুর ও অচল শহর
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন শহরের পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় হামলা চালায়। কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের পাশাপাশি দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়।
এছাড়া একটি পক্ষের কার্যালয়ে ঢুকে চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়। পুরো ঘটনার সময় আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকে। সাময়িকভাবে শহরের যান চলাচলও বন্ধ হয়ে পড়ে।
আহতদের চিকিৎসা
সংঘর্ষে আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও আশপাশের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ আহতই ইট ও পাথরের আঘাতে জখম হয়েছেন।
পুরনো বিরোধ থেকে নতুন উত্তেজনা
স্থানীয় সূত্র বলছে, এই সংঘর্ষ হঠাৎ করে হয়নি। এর পেছনে রয়েছে আগের একটি সহিংস ঘটনার রেশ। ঈদের আগে এক হামলার ঘটনায় এক পক্ষের নেতা গুরুতর আহত হন, যার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরবর্তীতে সেই ঘটনার দায় নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, মামলা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটূক্তি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ
সংঘর্ষের জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে।
মাহাবুবুর রহমান পলাশ বলেন, "পুলিশ পাহারায় জাকারিয়া পিন্টু গ্রুপের মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে তাদের মিছিলে অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। এতে তিনিসহ দলীয় অন্তত ২০-২৫ নেতাকর্মী বিভিন্নভাবে আহত হয়েছেন। তাদেরকে ঈশ্বরদী, পাবনা ও রাজশাহী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।"
মেহেদী হাসান বলেন, "ঈদের আগে চাঁদরাতে তাদের পক্ষের আব্দুল্লাহ রউফ আব্দুলকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে হাবিব গ্রুপ। সে এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর শয্যা লড়ছে। এতে আব্দুলের পক্ষে লোকজন হামলাকারীদের কয়েকজনের বাড়ি ভাঙচুর করেছেন। অথচ এই ঘটনায় হাবিব গ্রুপের পক্ষ থেকে আমাদের সন্ত্রাসী উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপ্রচার চালানো হচ্ছে। হাবিবের পক্ষে ইমরুল কায়েস সুমন ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জকে ম্যানেজ করে তার অফিস ভাঙচুর করার মিথ্যা মামলা দায়ের করিয়েছে। একই সঙ্গে আজ আমাদের বিরুদ্ধে ব্যানারে নানারকম মিথ্যাচার করে উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। ঘটনার সময় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বাড়ি ফেরার পথে রেলগেটে পৌঁছাতে হাবিবুর রহমান হাবিব গ্রুপের লোকজন বিক্ষোভ মিছিল থেকে তাকে লক্ষ্য করে হত্যার উদ্দেশে গুলি বর্ষণ করে। এতে তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা উত্তেজিত উঠলে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে তার পক্ষের অন্তত ১০-১২জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদেরকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।"