সাতক্ষীরায় পেট্রোল-পাম্পে দীর্ঘ লাইন, তেল সংকট চরমে

সাতক্ষীরায় পেট্রোল-পাম্পে দীর্ঘ লাইন, তেল সংকট চরমে
ছবির ক্যাপশান, সাতক্ষীরায় পেট্রোল-পাম্পে দীর্ঘ লাইন | ছবি : সংগৃহীত

সাতক্ষীরায় জ্বালানি তেলের সংকট গত কয়েক দিনের মধ্যে তীব্র আকার ধারণ করেছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। ২৩ মার্চ দুপুরের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেলের ঘাটতি প্রকট হতে শুরু করে এবং ২৪ মার্চ সকালে এসে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়।

জেলার বুধহাটা, ধুলিহর, এবি খান ও আলিপুরসহ একাধিক ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়ায় শত শত মোটরসাইকেল ও যানবাহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কোথাও অল্প পরিমাণে তেল দেওয়া হলেও অধিকাংশ পাম্পে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

২৪ মার্চ সকালে সাতক্ষীরা শহরের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দিনের শুরু থেকেই বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ভিড় বাড়তে থাকে এবং দ্রুতই তা দীর্ঘ সারিতে পরিণত হয়। এতে পরিবহন চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষজন পড়ছেন বিপাকে।

এই সংকটকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত মূল্যে তেল না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে জ্বালানি কিনছেন। সেখানে পেট্রোল প্রতি লিটার ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকারি নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক বেশি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। তাদের মতে, যথাযথ তদারকি না থাকায় এই সিন্ডিকেট পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে বেশি দামে তেল কিনতে বাধ্য করছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। ২৪ মার্চ সদর ও কলারোয়া উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহেদ হোসেন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসতিয়াক আহমেদ অপুর নেতৃত্বে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করা হয় এবং মজুদ, সরবরাহ চালান ও বিক্রয় রেজিস্টার যাচাই করা হয়।

অভিযানকালে রিজার্ভ ট্যাংক ও ভাউচার সংক্রান্ত তথ্য প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী দুটি পৃথক মামলায় মোট ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাম্প মালিকদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা কোনোভাবেই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রি না করেন।

এদিকে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকও পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি বলেন, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। কেউ যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে এই সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী ও গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।


সম্পর্কিত নিউজ