কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
ছবির ক্যাপশান, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত | ছবি : সংগৃহীত
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Showanur Rahman

ছুটির আমেজ আর অনুকূল আবহাওয়ার সুযোগে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এখন পর্যটকদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে। ২৪ মার্চের পরিস্থিতিতে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত হাজারো ভ্রমণপিপাসু সৈকতে ভিড় জমিয়েছেন। কেউ সমুদ্রের ঢেউয়ে নেমে গোসল করছেন, কেউ বালুচরে খেলাধুলা কিংবা ছবি তোলায় ব্যস্ত-সব মিলিয়ে পুরো সৈকতজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

ভোরের আলো ফোটার আগেই সূর্যোদয় উপভোগ করতে সৈকতে জড়ো হন পর্যটকেরা। সূর্যের প্রথম আলো ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রস্নানে নেমে পড়েন নানা বয়সী মানুষ। একদিকে ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দ, অন্যদিকে প্রকৃতির শান্ত সৌন্দর্য-এই দুইয়ের মিলনে কুয়াকাটা যেন হয়ে উঠেছে ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র।

শুধু সমুদ্রসৈকত নয়, আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতেও বেড়েছে পর্যটকদের উপস্থিতি। তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুঁটকি পল্লী, ঝাউবাগান ও গঙ্গামতি এলাকাগুলোতেও দিনভর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পর্যটকদের আনাগোনায় পুরো এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যেও এসেছে গতি।

পর্যটকদের চাপ সামলাতে হোটেল-মোটেলগুলো প্রায় পূর্ণ বুকিং অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় এবার পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেশি। এতে করে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ছোট ব্যবসাগুলোতে বিক্রি বেড়েছে এবং কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে রয়েছে পর্যটন পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও জীবনরক্ষী দল। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সতর্কতামূলক লাল পতাকা টানানো হয়েছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে পর্যটকদের সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সদস্যরাও বিভিন্নভাবে সহায়তা করছেন, যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রাশেদ মাহমুদ বলেন, কুয়াকাটার মতো জায়গা খুব কমই আছে যেখানে একইসঙ্গে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। সমুদ্রে গোসল করার অভিজ্ঞতাও দারুণ। পরিবার নিয়ে সময়টা খুব উপভোগ করছি। এখানকার পরিবেশ অনেক শান্ত। বাচ্চারা নিরাপদে খেলাধুলা করতে পারছে। তাই বারবার এখানে আসতে ইচ্ছে করে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় এখন পর্যটক অনেক বেশি। আমাদের প্রায় সব কক্ষই আগে থেকেই সংরক্ষিত। এতে ব্যবসা ভালো হচ্ছে।

কুয়াকাটার একটি রেস্তোরাঁর কর্মী রাকিবুল ইসলাম জানান, সামুদ্রিক মাছ ও স্থানীয় খাবারের চাহিদা বেড়েছে। পর্যটকদের ভিড়ে কর্মব্যস্ততা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

কুয়াকাটা ভ্রমণ পরিচালনাকারী সমিতির সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, অনেকদিন পর কুয়াকাটায় এমন পর্যটকের ভিড় দেখা যাচ্ছে। এখানে প্রায় ১৬টি পেশার মানুষ সরাসরি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা সবাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং আয়-রোজগারও বাড়ছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে কুয়াকাটা অঞ্চলের পর্যটন পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে আমরা সৈকতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ছয়টি দল নিয়োজিত করেছি। যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং পর্যটকরা নিরাপদে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে আমরা সার্বক্ষণিক কাজ করছি।


সম্পর্কিত নিউজ