রাজধানীতে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে ব্যস্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা

রাজধানীতে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে ব্যস্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা
ছবির ক্যাপশান, রাজধানীতে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে ব্যস্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা

পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত শেষে রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় শুরু হয় পশু কোরবানি। পশু জবাই ও মাংস কাটাকাটি শেষ হওয়ার পরপরই নগরীকে দ্রুত পরিচ্ছন্ন রাখতে মাঠে নামে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একযোগে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়। ধানমণ্ডি, লালবাগ, মগবাজার, মালিবাগ, খিলগাঁও, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, পুরান ঢাকা ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বর্জ্য সংগ্রহ করতে দেখা যায়। ছোট ভ্যান, ঠেলাগাড়ি, পিকআপ ও ডাম্প ট্রাকের মাধ্যমে বর্জ্য দ্রুত নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হচ্ছে।

 

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ধানমণ্ডি ও লালবাগ এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলি ঘুরে দেখা যায়, কোরবানি শেষ হওয়া মাত্রই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা রক্ত, নাড়িভুঁড়ি, পশুর অবশিষ্টাংশ ও অন্যান্য বর্জ্য সংগ্রহ করছেন। এসব বর্জ্য প্রথমে ছোট ভ্যানে তোলা হচ্ছে। পরে সেগুলো বড় ট্রাকের মাধ্যমে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন বা নির্ধারিত ডাম্পিং স্থানে পাঠানো হচ্ছে।

 

দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদুল আজহার পবিত্রতা রক্ষা, দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষণ ঠেকানো এবং নগরবাসীর স্বস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন থেকে টানা কয়েক দিন বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হবে।

 

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে বিপুলসংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী, যানবাহন ও তদারকি টিম মাঠে কাজ করছে। স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকির জন্য করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক কর্মকর্তারাও মাঠে রয়েছেন।

 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বেলা ১২টা থেকে মূল বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রথম দিনের কোরবানির বর্জ্য সরানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনেও বিভিন্ন ওয়ার্ডে আলাদা দল গঠন করে দ্রুত বর্জ্য অপসারণের কাজ চলছে।

 

নগরবাসীকে কোরবানির বর্জ্য ড্রেন, নর্দমা বা খোলা জায়গায় না ফেলে নির্ধারিত স্থানে রাখার আহ্বান জানিয়েছে সিটি করপোরেশন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ড্রেন বা নর্দমায় বর্জ্য ফেললে দুর্গন্ধ, জীবাণু ছড়ানো এবং বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এবার অনেক এলাকায় বর্জ্য অপসারণের গতি তুলনামূলক ভালো। কোরবানির পরপরই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এসে বর্জ্য সংগ্রহ করায় দুর্গন্ধ ছড়ানোর আগেই অনেক এলাকা পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে। তবে কিছু সরু গলি ও ভেতরের এলাকায় বর্জ্য অপসারণে আরও দ্রুততা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন অনেকে।

 

কোরবানির ঈদে রাজধানীতে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হয়। পশুর হাট, কোরবানির স্থান, বাসাবাড়ির সামনে এবং অস্থায়ী জবাইয়ের জায়গা থেকে এসব বর্জ্য সংগ্রহ করে দ্রুত অপসারণ করা নগর ব্যবস্থাপনার বড় চ্যালেঞ্জ। তাই দুই সিটি করপোরেশন আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়।

 

সব মিলিয়ে ঈদের দিন সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে। নগরবাসীর সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করছে দুই সিটি করপোরেশন।


সম্পর্কিত নিউজ