ঢাকায় বাড়ছে বায়ুদূষণ, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

ঢাকায় বাড়ছে বায়ুদূষণ, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

নগরায়ন, শিল্পকারখানা ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের অনেক শহরেই বায়ুদূষণ ক্রমেই বাড়ছে। এই সমস্যার বড় ভুক্তভোগী বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ শহরের তালিকায় রয়েছে মেগাসিটিটি। বিশেষ করে শীতের মৌসুম এলেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। শুষ্ক আবহাওয়া, নির্মাণকাজের ধুলা ও যানবাহনের কালো ধোঁয়া মিলিয়ে ঢাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। ফলে প্রায় প্রতিদিনই দূষিত শহরের বৈশ্বিক তালিকার উপরের দিকে দেখা যাচ্ছে ঢাকাকে।

আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান (আইকিউএয়ার) এর তথ্যমতে, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ৯টার দিকে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। ওই সময় ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) স্কোর ছিল ২২৬, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। এর আগে গত শুক্রবার একই সময়ে ঢাকার স্কোর ছিল ১৯৭। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে রাজধানীর বাতাসে দূষণের মাত্রা আরও বেড়েছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে মিশরের কায়রো। শহরটির বায়ুমান সূচক স্কোর ৪৮৯, যা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত। এতে করে ভয়াবহ দূষণের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন কায়রোর বাসিন্দারা।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যেখানে বায়ুমান স্কোর ২০০। দেশটির আরেক শহর কলকাতা ১৭২ স্কোর নিয়ে তালিকার অষ্টম স্থানে রয়েছে। এছাড়া ভারতের মুম্বাই শহর রয়েছে দশম অবস্থানে। দূষণের মাত্রায় পার্থক্য থাকলেও তিনটি শহরের বায়ুমানই ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।

এ ছাড়া তালিকার পঞ্চম ও ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর ও করাচি। শহর দুটির বায়ুমান স্কোর যথাক্রমে ১৮৩ ও ১৭৯। এই দুটি শহরের বাতাসের মানও ‘অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে।

এ ছাড়া ১৮৪ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে মঙ্গোলিয়ার উলানবাটর। ১৭৩ স্কোর নিয়ে সপ্তম স্থানে নেপালের কাঠমান্ডু এবং ১৬৯ স্কোর নিয়ে নবম অবস্থানে রয়েছে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন শহর।

বায়ুমান সূচক (একিউআই) অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ স্কোরকে ভালো বায়ু হিসেবে ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর মাঝারি, আর ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর হলে বাতাসকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে শ্রেণিভুক্ত করা হয়।

এ ছাড়া ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকার এবং অন্যদের বাইরে কার্যক্রম সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদিকে ৩০১ থেকে ৪০০ স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।


সম্পর্কিত নিউজ