{{ news.section.title }}
দিনাজপুরে আঞ্চলিক গণিত উৎসব: খুদে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ উদ্দীপনা
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
শীতের সকালে উজ্জ্বল রোদ্দুরে দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মাঠে জমে উঠেছে খুদে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস। পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও জয়পুরহাটসহ রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছে ‘ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসব ২০২৬’-এর দিনাজুর আঞ্চলিক পর্বে। অনুষ্ঠানের স্লোগান ছিল “গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো”, যা খুদে গণিতবিদদের মধ্যে গণিতচর্চার আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
সকাল সোয়া ৯টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এস এম হাবিবুল হাসান, আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দিনাজপুর শাখার উপব্যবস্থাপক মোস্তফা হেলাল এবং বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ওয়াদুদ মন্ডল।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলো বন্ধুসভার উপদেষ্টা শিলাদিত্য শীল। তিনি বলেন, “গণিত একটি ভাষা। দৈনন্দিন জীবনে গণিতের প্রভাব অপরিসীম। শিশুদের মধ্যে গণিতচর্চা বাড়ানো মানসিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আজকের খুদে শিক্ষার্থীরা সাহসিকতার সঙ্গে গণিত রপ্ত করতে এগিয়ে এসেছে, যা তাদের চিন্তাশক্তি ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।”
পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ওয়াদুদ মন্ডল বলেন, “শিক্ষার্থীদের গণিতের প্রতি আগ্রহ দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। গণিত কেবল সংখ্যা নয়, এটি চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতার প্রকাশ। এই আগ্রহ ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপক মোস্তফা হেলাল বলেন, “শিশুদের মানসিক ও বৌদ্ধিক বিকাশের জন্য গণিতের চর্চা অপরিহার্য। বর্তমান প্রযুক্তি শিক্ষার সঙ্গে গণিতের সংযোগ আরও সহজ করছে, যার ফলে খুদে শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক স্তরেই উচ্চতর ধারণা আয়ত্ত করতে পারছে।”
অনুষ্ঠান বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে উদ্বোধন ঘোষণা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম হাবিবুল হাসান। তিনি বলেন, “এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের আইনস্টাইন তৈরি হবে। শিক্ষার্থীরা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগীদের পিছনে ফেল করে নিজস্ব দক্ষতা প্রমাণ করছে।”
সকাল সোয়া ১০টায় ঘণ্টাব্যাপী মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ফুলবাড়ী উপজেলার সূর্যপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বুশরা হাসান বলেন, “অঙ্ক সমাধান করতে খুব ভালো লাগে। নতুন বিষয় শিখতে পারছি, খুব আনন্দ লাগছে।” ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিসান বলেন, “বাবা সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। কিছুদিন ধরে প্র্যাকটিস করেছি, খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবক শাহনাজ পারভীন বলেন, “গণিত ছাড়া শিশুরা আগাইতে পারবে না। সঠিক চর্চা না থাকলে ফলাফলও ভালো হয় না। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিতের আগ্রহ বাড়াচ্ছে।”
উৎসব আয়োজন করেছে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনায়। প্রাইমারি, জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি-চারটি বিভাগে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল, যাদের মধ্যে ৬৫৪ শিক্ষার্থীকে আঞ্চলিক পর্বে ডাকা হয়। মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৫১২ শিক্ষার্থী।