{{ news.section.title }}
আগামী বছর ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শুরু: মির্জা ফখরুল
দেশের উত্তরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে আগামী বছর থেকে ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম চালু হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। ঘোষণাটি স্থানীয় জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘদিনধরেই ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের জেলার বাসিন্দারা উন্নত চিকিৎসা সুবিধা এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরঅভাবে নানা ভোগান্তির মুখোমুখিহয়ে আসছেন। বিশেষ করে চিকিৎসা শিক্ষারজন্য শিক্ষার্থীদের রংপুর, রাজশাহী কিংবা রাজধানী ঢাকার ওপর নির্ভর করতেহয়। এ প্রেক্ষাপটে ঠাকুরগাঁওয়েএকটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিস্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজেরপক্ষ থেকে বহু বছরধরে উত্থাপিত হয়ে আসছিল।
সরকারিউদ্যোগে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনাগ্রহণের পর সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল সম্ভাব্য অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনার জন্য এলাকা পরিদর্শনকরে। পরিদর্শন শেষে তারা ইতিবাচকমতামত প্রদান করেছেন বলে জানান মির্জাফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মন্ত্রীবলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট টিম জানিয়েছে-প্রয়োজনীয়প্রস্তুতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকার্যক্রম সম্পন্ন করা গেলে ২০২৭সালের মধ্যেই ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা সম্ভবহবে। তিনি এটিকে জেলারশিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেরজন্য একটি বড় অগ্রগতিহিসেবে উল্লেখ করেন।
তারমতে, একটি মেডিকেল কলেজচালু হলে শুধু চিকিৎসকতৈরির সুযোগই বাড়বে না, বরং স্থানীয়পর্যায়ে আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করারক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে জেলার সাধারণমানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী শহরেযাওয়ার চাপ থেকে অনেকটাইমুক্তি পাবে।
সভাশেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবেসাম্প্রতিক সময়ে কিছু গণমাধ্যমেউপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে প্রকাশিত দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব।তিনি বলেন, অতীত বিতর্ক নিয়েসময় ব্যয় না করেদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার দিকে মনোযোগ দেওয়াপ্রয়োজন। অর্থনৈতিক অগ্রগতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং রাষ্ট্রপরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এখন প্রধানঅগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলেতিনি মত দেন।
ঠাকুরগাঁওমেডিকেল কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হলে উত্তরাঞ্চলেরস্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে ধারণাকরা হচ্ছে। নতুন চিকিৎসক তৈরিরপাশাপাশি স্থানীয় হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এতে চিকিৎসা খাতেমানবসম্পদের ঘাটতি কমবে এবং অঞ্চলেরস্বাস্থ্য সূচক উন্নয়নে ইতিবাচকপ্রভাব পড়বে।
এছাড়ামেডিকেল কলেজকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতিতেওগতি সঞ্চার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবাসন, পরিবহন, শিক্ষা সহায়ক প্রতিষ্ঠান, ফার্মেসি ও অন্যান্য সেবামূলকখাত সম্প্রসারিত হবে, যা কর্মসংস্থানেরনতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
দুর্নীতিরবিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মির্জাফখরুল বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিদমন ও তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত, তাদের নিজ নিজ দায়িত্বযথাযথভাবে পালন করা উচিত।তিনি উল্লেখ করেন, দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমনকমিশন (দুদক) রয়েছে এবং আইন অনুযায়ীতারাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বিএনপি কখনো দুর্নীতিকে সমর্থনকরেনি এবং ভবিষ্যতেও করবেনা বলেও তিনি পুনর্ব্যক্তকরেন।
বিশ্লেষকদেরমতে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মেডিকেল কলেজ স্থাপন স্বাস্থ্যখাতেরবিকেন্দ্রীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাজধানী ও বড় শহরকেন্দ্রিকচিকিৎসা ব্যবস্থার চাপ কমাতে আঞ্চলিকমেডিকেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। ঠাকুরগাঁওমেডিকেল কলেজ চালু হলেউত্তরবঙ্গের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামোনতুন মাত্রা পাবে।
তবেবিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শুধুঅবকাঠামো নির্মাণ নয়-যোগ্য শিক্ষকনিয়োগ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার মানবজায় রাখা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।যথাযথ পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ননিশ্চিত করা গেলে এইপ্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজে আগামী বছর ভর্তি কার্যক্রমশুরুর সম্ভাবনা জেলার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে বড় পদক্ষেপহিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন সংশ্লিষ্ট মহলেরনজর বাস্তবায়নের গতি ও নির্ধারিতসময়ের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করার ওপর।