বেডরুমে ঢুকে গুলি করার হুমকি: রংপুরে ইন্টারনেট ব্যবসা দখলের চেষ্টা

বেডরুমে ঢুকে গুলি করার হুমকি: রংপুরে ইন্টারনেট ব্যবসা দখলের চেষ্টা
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Md Ibrahim Sakib

রংপুর নগরীতে কারাগারে থাকা এক রাজনৈতিক নেতার মালিকানাধীন ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলা যুবদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে অফিসে হামলা, ভাঙচুর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে অভিযুক্ত দুই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

পুলিশও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রংপুর মহানগরের কামাল কাছনা এলাকা থেকে দখিগঞ্জ শ্মশান পর্যন্ত কেবল সংযোগ ও ওয়াই-ফাই সেবা পরিচালনা করছিল ‘ক্যাবল ওয়ান নেটওয়ার্ক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এটি পরিচালনা করতেন মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত একটি মামলায় বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

ব্যবসায়ীর পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁদের প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের জন্য বিভিন্নভাবে চাপপ্রয়োগ করা হচ্ছিল। এতে রাজি না হওয়ায় গত২৩ ফেব্রুয়ারি পরিকল্পিতভাবে তাঁদের বৈধ ফিড সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়।এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত রোববার বিকেল প্রায় চারটার দিকে রংপুর নগরের স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থিত ক্যাবল ওয়ান কার্যালয়ে জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান (মনু) ও সহসাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ (গালিব) তাঁদের ১৫ থেকে ২০জন অনুসারী নিয়ে প্রবেশ করেন।

এ সময় অফিসের ব্যবস্থাপক রায়হান আহম্মেদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং প্রতিষ্ঠানের ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তামজিদুর রশিদকে নতুন ফিড অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টিকরা হয়।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অফিসে অবস্থানকালে একপর্যায়ে আকিবুল রহমান মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের ম্যানেজার মাহাদি হাসানকে ফোন করে অশ্রাব্যভাষায় কথা বলেন এবংসরাসরি গুলি করে হত্যার হুমকি দেন। তিনি বলেন, সমস্যার সমাধান না হলে বাসায় গিয়ে ‘বেডরুমে ঢুকে পরিবারসহ গুলিকরা হবে’-এমন ভয়ভীতিপ্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পরপরই যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি জরুরি সিদ্ধান্ত নেয়। কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আকিবুল রহমান ও তামজিদুর রশিদকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। একইসঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে তামজিদুর রশিদ দাবি করেন, ২০১৫ সাল পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট লাইন তাঁর নিয়ন্ত্রণেছিল এবং পরবর্তীতে সেটি দখল করা হয়েছে। তাঁরভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজের অধিকার পুনরুদ্ধারের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন এবং কোনো ধরনের হামলা বা সহিংসতায় জড়িত ছিলেন না। অফিসে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও তা আলোচনার অংশ ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান আলী জানান, ঘটনারপর মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডও ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। মামলায় অভিযুক্ত দুই নেতার নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

স্থানীয়ভাবে ইন্টারনেট ও কেবল ব্যবসাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নতুন নয়। তবে প্রকাশ্যে অফিসে প্রবেশ করে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা ব্যবসায়িক নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠলে তা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থানা নিলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও সংঘাত উসকে দিতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখাও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ঘটনাটি রংপুরের ব্যবসায়িক পরিবেশে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবংসংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের জন্যজরুরি হয়ে পড়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ