{{ news.section.title }}
ভালো কাজে ইফতারি ও রাতের খাবার: কুড়িগ্রামে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
পবিত্র রমজান মাসকে ঘিরে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে শুরু হয়েছে এক অভিনব মানবিক কর্মসূচি। দিনে অন্তত একটি ভালো কাজ সম্পন্ন করলেই অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষ পাচ্ছেন বিনা মূল্যে ইফতারি ও রাতের খাবার। রাজধানীকেন্দ্রিক সংগঠন ‘ভালো কাজের হোটেল’ রমজানজুড়ে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে, যা ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
রমজান মাসে সাধারণত বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন ইফতার বিতরণ কর্মসূচি হাতে নেয়। তবে ভালো কাজের শর্ত যুক্ত করে ইফতার দেওয়ার এমন ব্যতিক্রমী ধারণা সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার এক নতুন প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংগঠনটির দাবি, ২০১৯ সাল থেকে সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরির লক্ষ্যে তারা এ কার্যক্রম চালু করে এবং ধীরেধীরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তা সম্প্রসারিত করে।
সম্প্রতি চিলমারী উপজেলার রমনা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইফতার বিতরণকে কেন্দ্র করে নারী, পুরুষও শিশুদের উপস্থিতি। দিনমজুর, রিকশাচালক, শ্রমজীবী মানুষ ও রেলবস্তির বাসিন্দারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁদের প্রত্যেকের মুখে একই কথা-“আজ একটি ভালো কাজ করেছি।”
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়। প্রতিদিনের মেন্যুতে ভিন্নতা থাকে। কখনো বিরিয়ানি, কখনো মুরগির রোস্ট, সঙ্গে খেজুর ও শরবত দেওয়াহয়। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে রাতের খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়।
সংগঠনের সিনিয়র স্বেচ্ছাসেবক নুর আলম বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই খাবার দেওয়া হচ্ছে। শর্ত একটাই-দিনে অন্তত একটি মানবিক বা সামাজিকভাবে ইতিবাচক কাজ করতে হবে।কারও সহায়তা করা, অসুস্থ ব্যক্তিরপাশে দাঁড়ানো, পথঘাট পরিষ্কার রাখা কিংবা অন্যেরউপকারে আসা-এ ধরনের যেকোনো কাজই গ্রহণযোগ্য।
নুরআলম জানান, ‘ভালো কাজের হোটেল’ মূলত ঢাকাভিত্তিক সংগঠন ‘ইয়ুথ ফর বাংলাদেশ’-এর একটি শাখাউদ্যোগ। সংগঠনটির প্রায় ৪,১০০ সদস্য প্রতিদিন ১০ টাকা করে অনুদান প্রদান করেন। সেই অর্থায়নেই কুড়িগ্রাম সহদেশের চারটি স্থানে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে কুড়িগ্রাম, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও মাদারীপুরে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তা ও পাওয়া যাচ্ছে।
রমনা রেলওয়ে বস্তির বাসিন্দা খাদিজা বেগম বলেন, সংসারে সচ্ছলতা নেই, ভালো খাবার জোটে না। এখানে এসে অন্তত একবেলা পরিতৃপ্তির সঙ্গে খেতে পারেন। রোজার দিনে এটি তাঁদের জন্য বড় সহায়তা।
অন্যদিকে রমনা ব্যাপারীপাড়া থেকে আসা ছালমা বেগম জানান, এক অসুস্থ বৃদ্ধকেস্নান করিয়ে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার পর তিনি এখানে ইফতার পেয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ছোট একটি মানবিক কাজের এমন সম্মান পেয়ে ভালো লেগেছে।
স্থানীয় যুবক সাব্বির বলেন, প্রতিদিন কয়েক শ মানুষ এখানে আসেন। ভালো কাজের বিনিময়ে খাবার দেওয়ার বিষয়টি সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদেরমতে, এ ধরনের উদ্যোগ কেবল খাদ্য সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সমাজে ইতিবাচক আচরণ উৎসাহিত করার একটি কার্যকর পদ্ধতি। দানশীলতার পাশাপাশি নৈতিক দায়িত্ববোধ তৈরি করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা বাড়তেপারে।
একদিকে দরিদ্র মানুষের খাদ্যসংকট কিছুটা লাঘব হচ্ছে, অন্যদিকে ভালো কাজের প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ায় সামাজিক বন্ধনও মজবুত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি এমন স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মসূচি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ সুগম করতেপারে।
রমজান মাসজুড়ে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, ভবিষ্যতেও এমন মানবিক উদ্যোগ সম্প্রসারিত হবে এবং আরও বেশি মানুষ উপকৃত হবে।