{{ news.section.title }}
বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার ১১ মাস পর লাশ হয়ে দেশে ফিরলেন আজিজুর
সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক হওয়ার প্রায় ১১ মাস পর লাশ হয়ে দেশে ফিরলেন আজিজুর রহমান (৫০)। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে ভারতীয় পুলিশ তার মরদেহ হস্তান্তর করে।
নিহত আজিজুর রহমান ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা সাহানাবাদ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৪ মে সীমান্ত এলাকায় ঘাস কাটার সময় ভারতের ১৮৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আমবাড়ি ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ, আটকের পর তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে শিলিগুড়ি জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
প্রায় সাড়ে ১০ মাস কারাগারে থাকার পর গত ২২ মার্চ তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই দিন বিকেলে শিলিগুড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শুক্রবার বাংলাবান্ধা সীমান্তে আনুষ্ঠানিকভাবে তেঁতুলিয়া মডেল থানা ও ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি উপহাইকমিশনের প্রতিনিধি, বিজিবির বাংলাবান্ধা বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ইউনুস এবং তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ধর্মগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম বলেন, আটকের সময় বিএসএফ সদস্যরা আজিজুরকে মারধর করেছিল এবং সেই আঘাত নিয়েই তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। দীর্ঘ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
মরদেহ বুঝে পাওয়ার পর আজিজুরের স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।