{{ news.section.title }}
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম পতন
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হঠাৎ নরম হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ২৪ মার্চের প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে সম্ভাব্য হামলা আপাতত স্থগিত রাখার কথা জানানোর পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন শুরু হয়।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে একটি “সম্পূর্ণ ও সামগ্রিক” সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সেই আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক হওয়ায় সামরিক পদক্ষেপ কিছুদিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি বলে অস্বীকার করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই ঘোষণার পরপরই অপরিশোধিত তেলের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। আগে যেখানে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, সেখানে দ্রুত তা নেমে এক পর্যায়ে ৯৬ ডলারের কাছাকাছি চলে আসে। যদিও পরে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসে, তবে এই ওঠানামা বাজারের অস্থিরতার ইঙ্গিত বহন করছে।
অন্যদিকে, তেলের দাম কমার প্রভাব সরাসরি বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে পড়েছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সূচকগুলো নিম্নমুখী ধারা কাটিয়ে পুনরায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক দিনের শুরুতে পতনের পর স্থিতিশীল হয়, জার্মানির ডিএএক্স সূচক বৃদ্ধি পায় এবং ফ্রান্সের সিএসি ৪০ সূচকও ঊর্ধ্বমুখী থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচকেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
তবে এশিয়ার বাজারে চিত্র ছিল ভিন্ন। ট্রাম্পের মন্তব্যের আগেই লেনদেন শেষ হয়ে যাওয়ায় জাপানের নিক্কেই ২২৫ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি বড় ধরনের পতনের মুখে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ওপর জ্বালানিনির্ভর দেশগুলো এই সংঘাতের কারণে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালি, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। বৈশ্বিক তেল ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের পর থেকে এই রুটে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি এবং এ ধরনের দাবি বাজারকে প্রভাবিত করার কৌশল হতে পারে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ সামাজিক মাধ্যমে এ বক্তব্য দেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত। বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক বক্তব্যের ওপর বাজারের অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে, কারণ অল্প সময়ের মধ্যেই অবস্থান পরিবর্তন হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি-এর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে পারে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট এবং সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংঘাতগুলোর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল এবং যেকোনো সময় নতুন মোড় নিতে পারে। তেলের দাম, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা-সবকিছুই এখন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে, যা ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখেছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা