দেশের পুঁজিবাজারে প্রথমবারের মতো ‘অরেঞ্জ বন্ড’ এর অনুমোদন

দেশের পুঁজিবাজারে প্রথমবারের মতো ‘অরেঞ্জ বন্ড’ এর অনুমোদন
ছবির ক্যাপশান, দেশের পুঁজিবাজারে প্রথমবারের মতো ‘অরেঞ্জ বন্ড’ এর অনুমোদন

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে নারী ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশে প্রথমবারের মতো ১৫৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ‘অরেঞ্জ বন্ড’ ইস্যু করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) সাজেদা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই বন্ডটি বাজারে ছাড়া হবে।

সোমবার (৩০ মার্চ) অনুষ্ঠিত বিএসইসির ১০০৬তম কমিশন সভায় এই বিশেষ বন্ড ইস্যু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই খবরের বিস্তারিত জানানো হয়েছে।

কী এই অরেঞ্জ বন্ড?
অরেঞ্জ বন্ড মূলত একটি বিশেষ বিনিয়োগ মাধ্যম। এটি বিশেষভাবে নারী, কন্যাশিশু এবং লিঙ্গীয় সংখ্যালঘুদের ক্ষমতায়ন এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ডিজাইন করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো এমন একটি অর্থনৈতিক মডেল তৈরি করা, যা সরাসরি সামাজিক পরিবর্তনের সাথে যুক্ত থাকে।
ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড উল্লেখ করেছে যে, এটি একটি জিরো-কুপন বন্ড। সাধারণ বন্ডের মতো এতে সরাসরি সুদের হার উল্লেখ থাকে না। বরং বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি ফেস ভ্যালুর চেয়ে কম মূল্যে অর্থাৎ ডিসকাউন্টে বিক্রি করা হয়।
তবে মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পূর্ণ অভিহিত মূল্য হাতে পান, এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য মুনাফা হিসেবে গণ্য হয়।

এই বন্ড ইস্যুর প্রক্রিয়ায় সাজেদা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে রয়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষ মার্চেন্ট ব্যাংক ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড এবং সিঙ্গাপুরভিত্তিক আন্তর্জাতিক ইমপ্যাক্ট ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জ (IIX)।

উল্লেখ্য, এই অরেঞ্জ বন্ড এর মেয়াদ ১ থেকে ৩ বছর। প্রাইভেট প্লেসমেন্ট পদ্ধতিতে এই বন্ড করপোরেট প্রতিষ্ঠান, উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি, ব্যাংক, বীমা কোম্পানি এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে অফার করা হবে।
বন্ডের প্রতিটি ইউনিটের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩ টাকা। বিনিয়োগকারীদের জন্য এর ডিসকাউন্ট রেট প্রায় ৭ থেকে ১১.৫০ শতাংশ এর মধ্যে থাকবে।

 

এই বন্ডের মাধ্যমে যে ১৫৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হবে তা সুনির্দিষ্ট তিনটি উন্নয়নমূলক খাতে ব্যয় করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যথা-
১) খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষিঃ বন্ডের তহবিলের প্রায় অর্ধেক অংশ (৪৮ শতাংশ) ব্যয় করা হবে টেকসই কৃষি উন্নয়ন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

২) নারী নেতৃত্বাধীন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প নারী উদ্যোক্তাদের পরিচালিত ব্যবসা ও এসএমই খাতে ব্যয় করা হবে ৩২ শতাংশ। এই আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ত্বরান্বিত করা হবে।

৩) জলবায়ু-সহনশীল আবাসনঃ ২০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হবে দেশের ৩৬টি উপকূলীয় ও ঝুঁকিপ্রবণ জেলায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সক্ষম পরিবেশবান্ধব আবাসন ব্যবস্থা তৈরি করতে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ব্যয় বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত রে জানিয়েছে যে, বিনিয়োগের সুফল এবং নারী ক্ষমতায়নে এর প্রকৃত প্রভাব আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি স্বতন্ত্র বার্ষিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। এর ফলে যেমন স্বচ্ছতা বজায় থাকবে, পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরা জানতে পারবেন যে তাদের অর্থ কীভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।

ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড আরও উল্লেখ করেছে, দীর্ঘদিন যাবত বাংলাদেশের বন্ড বাজার সরকারি ট্রেজারি বন্ড এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সাবঅর্ডিনেটেড ঋণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এই প্রথমবারের মতো সামাজিক প্রভাব বিস্তারকারী কোনো বেসরকারি বন্ডের মাধ্যমে বাজারে একটি নতুন ‘ফিক্সড ইনকাম অ্যাসেট ক্লাস’ বা সম্পদ শ্রেণির সূচনা হলো।
তারা জানায় এটি দেশের পুঁজিবাজারকে আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বৈচিত্র্যময় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


সম্পর্কিত নিউজ