{{ news.section.title }}
সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য ও বৈজ্ঞানিক জীবনধারা কার্যক্রম বাস্তবায়নে ১০ নির্দেশনা
দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দেশের সব স্কুল ও কলেজের জন্য ১০ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিনআল মাহমুদ সোহেলের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাবিভাগের সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার উদ্যোগে একটি বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।এই কর্মসূচির আওতায় বেসরকারি সংস্থা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন প্রস্তুত করা একটি প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল অনুসরণ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাও বৈজ্ঞানিক জীবনযাপন বিষয়ে সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমপরিচালনা করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্থিতি, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও ইতিবাচক জীবনদর্শন গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিবেচনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক একটি সমন্বিত কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেয়।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে মাউশি এবং কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই সমঝোতা অনুযায়ী দেশের সব মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে একদিনের প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব ক্যাম্পাসেই এই প্রশিক্ষণ আয়োজন করবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের নিবন্ধিত ও অনুমোদিত স্বেচ্ছাসেবী প্রশিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণের সময়সূচি নির্ধারণ করবেন।
প্রশিক্ষণের মূল বিষয়বস্তু হবে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, ইতিবাচক চিন্তাভাবনা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং সুস্থ দৈনন্দিন অভ্যাস গড়ে তোলা। প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীরা যেন নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এসব অভ্যাস ধরে রাখতে পারে, সেজন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি মনিটরিং পুল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত মনিটরিং পুল শিক্ষার্থীদের দৈনিক অনুশীলন কার্যক্রম তদারকি করবে। এই দল প্রশিক্ষণ-পরবর্তী কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিং সহায়তাও প্রদান করবে।
এছাড়া নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মনিটরিং পুলের দায়িত্ব ও কাজ প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল এবং বাস্তবায়ন নির্দেশিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। নির্ধারিত গাইড লাইনের বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।
প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রতি বছর নতুন ভর্তিহওয়া শিক্ষার্থীদের জন্যও এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে প্রয়োজনে একাধিক ব্যাচে প্রশিক্ষণ আয়োজন করা যেতে পারে।
অন্যদিকে, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবংমানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজন মনে করলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জেলা, উপজেলা বা থানা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠান প্রধানরা এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবেন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সমঝোতা স্মারকের আলোকে কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকিতে ভূমিকা রাখবেন।
প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রয়োজনে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারীর সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে নিয়মিত অনুশীলন ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগড়ে উঠলে শিক্ষার্থীদের শারীরিকও মানসিক সুস্থতা উন্নত হবে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক এমন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং মানসিক চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্কও আরও শক্তিশালী হবে।
সব মিলিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই নতুন নির্দেশনা শিক্ষার্থীদের সুস্থ জীবনধারা ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।