৯ বোর্ডে একই প্রশ্নে পরীক্ষা!

৯ বোর্ডে একই প্রশ্নে পরীক্ষা!
ছবির ক্যাপশান, ৯ বোর্ডে একই প্রশ্নে পরীক্ষা!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Showanur Rahman

দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে প্রশ্নপত্রের মান ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সমতা আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্য সামনে রেখে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও ‘যা লিখেছে তাই নম্বর’ নীতি আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হচ্ছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব কথা বলেন। ‘এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব)’–এর সদস্যদের সঙ্গে ইফতার-পরবর্তী এই আলোচনায় শিক্ষাব্যবস্থার নানা দিক নিয়ে কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষায় নকলের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। অতীতে যেভাবে নকলবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছিল, প্রয়োজনে আবারও সেভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে। পরীক্ষার সময় কোথাও নকলের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নকলের বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী। মন্ত্রী জানান, পরীক্ষায় নকল রোধে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা বসানো এবং প্রয়োজন হলে ভিডিও নজরদারির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে পরীক্ষার সময় অনিয়ম বা নকলের ঘটনা ঘটলে পরে প্রমাণ হিসেবে তা ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

নকল ঠেকাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী জানান, গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং প্রয়োজনে ভিডিও নজরদারির ব্যবস্থা করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এতে পরীক্ষার সময় কোনো অনিয়ম বা নকলের ঘটনা ঘটলে পরে তা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরীক্ষা কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায়ও কিছু পরিবর্তনের চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। পরীক্ষা কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনায় মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার্থীরা যেন নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিতে না পারে-এ বিষয়ে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ যেসব শিক্ষার্থী যে প্রতিষ্ঠানের, তারা সেই একই কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে না। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী যোগসাজশ কমবে এবং নকলের সুযোগও কমে আসবে। তবে দুর্গম অঞ্চল, হাওর বা বিশেষ পরিস্থিতির ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যতিক্রম রাখা হতে পারে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে খাতা ঠিকভাবে মূল্যায়ন না করেও অনেক শিক্ষার্থীকে পাস করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে ফলাফলের হার কিছুটা কমে যাওয়ার পেছনে সেই বাস্তবতাও কাজ করছে। তবে ধীরে ধীরে শিক্ষার মান উন্নত করে বাস্তবসম্মত ফলাফল নিশ্চিত করা হবে।

এ সময় এমপিওভুক্তি সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, মন্ত্রণালয়ে ফাইল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা বরদাস্ত করা হবে না। কোনো ফাইল যেন অকারণে ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে না থাকে-সেই নির্দেশনাও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে গতি আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষক-কর্মচারী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত সেবা পেতে পারে।


সম্পর্কিত নিউজ