দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ইউজিসির নতুন চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ

দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ইউজিসির নতুন চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ
ছবির ক্যাপশান, ইউজিসির নতুন চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর ১৫তম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রো-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বুধবার (১৮ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর মাধ্যমে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়।

দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিদায়ী চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এ সময় কমিশনের সদস্যবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ১৬ মার্চ জারি করা প্রজ্ঞাপনে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী তাকে চার বছরের জন্য চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার যোগদানের দিন থেকেই এ নিয়োগ কার্যকর হয়েছে এবং তিনি প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন।

শিক্ষা জীবনে ড. মামুন আহমেদ ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতক এবং ১৯৯১ সালে একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ১৯৯৬ সালে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করে তিনি ধাপে ধাপে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক হয়ে ২০০৮ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

গবেষণার ক্ষেত্রে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতার অধিকারী। জাপানের নিহন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন থেকে ভাইরোলজিতে পিএইচডি অর্জনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ-এ পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপ সম্পন্ন করেন। এছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে গবেষণা সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার গবেষণার মূল ক্ষেত্র ট্রান্সলেশনাল মলিকুলার ভাইরোলজি ও ভাইরাল ডায়াগনস্টিকস। এ পর্যন্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তার ৫০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে আধুনিক রোগনির্ণয় পদ্ধতি উদ্ভাবন ও তা বাস্তব প্রয়োগে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

দীর্ঘদিনের গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ এই শিক্ষাবিদ COVID-19 মহামারির সময়ও সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন এবং দেশে ভাইরাস মোকাবিলায় ভূমিকা রেখেছেন।

এছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একাধিক মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।


সম্পর্কিত নিউজ