দেড় বছর পর প্রক্সিকাণ্ডে জড়িত তিন রাবি শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল

দেড় বছর পর প্রক্সিকাণ্ডে জড়িত তিন রাবি শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল
  • Author, রাবি প্রতিনিধি
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রথম বর্ষ (স্নাতক) ভর্তি পরীক্ষায় সংঘটিত ভয়াবহ প্রক্সিকাণ্ডের ঘটনায় দেড় বছর পর জড়িত তিন শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল (৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সির মাধ্যমে ভর্তির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তিন শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করা হয়েছে।

ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সনি, আইন বিভাগের ফাহিম আল মামুন বর্ণ এবং ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শোভন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় একই প্রক্সিদাতার মাধ্যমে চারজন ভর্তির সুযোগ পান। এর মধ্যে তিনজন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন। অপর একজন ভর্তির সুযোগ পেলেও পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হননি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

এরপর অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির সভাপতি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান। সদস্য হিসেবে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান ও সাবেক আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্যা। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন উপ-রেজিস্ট্রার এ.এইচ.এম. আসলাম হোসেন।

তদন্তে উঠে আসে, আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহিম আল মামুন বর্ণ ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৮২.৬০ নম্বর পেয়ে ৪৬তম মেধাস্থান অর্জন করে ভর্তি হন। তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২১১০২১৬১২৬ এবং পরীক্ষার রোল নম্বর ৫৪১৩৭। বর্তমানে তিনি আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের অধ্যয়নরত। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

একই পন্থা অবলম্বন করে ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৭৯.৭০ নম্বর পেয়ে ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগে ভর্তি হন মো. শোভন। তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২১১০৯২৯১১২ এবং রোল নম্বর ৭১১০৬। তিনি বর্তমানে ওই বিভাগের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

অন্যদিকে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সির মাধ্যমে ৭২.৬৫ নম্বর পেয়ে ১৬তম মেধাস্থান অর্জন করে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে ভর্তি হন মেহেদী হাসান সনি। তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২১১০৩৩৩১৭০ এবং পরীক্ষার রোল নম্বর ৯৬১১৫। তিনি বর্তমানে বিভাগের চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিন্ডিকেট সদস্য ও আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নিজাম উদ্দীন বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সির মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় সিন্ডিকেট সভায় তিন শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
 

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

❤️
Love
0
(0.00 / 0 total)
👏
Clap
0
(0.00 / 0 total)
🙂
Smile
0
(0.00 / 0 total)
😞
Sad
0
(0.00 / 0 total)

মন্তব্যসমূহ

এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।


সম্পর্কিত নিউজ