বর্ণাঢ্য আয়োজনে ইবির আইসিটি বিভাগের রজতজয়ন্তী উদযাপিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে ইবির আইসিটি বিভাগের রজতজয়ন্তী উদযাপিত
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

বর্ণাঢ্য আয়োজনের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের রজতজয়ন্তী ও অ্যালামনাই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুইদিন ব্যাপী আয়োজনে সংস্কৃতি সন্ধ্যা, আনন্দ র‌্যালি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজেন মধ্যদিয়ে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইগণ রজতজয়ন্তী উদযাপন করেন।

শনিবার (১০ জানুয়ারী) দুপুর সাড়ে ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনবে সীনা বিজ্ঞান ভবনের সামনে থেকে একটি আনন্দ র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিতে শিক্ষার্থীদের বিভাগের হাতে বিভিন্ন আকৃতির প্ল্যাকার্ড ও রজতজয়ন্তী বিষয়ক বার্তা দেখা যায়। এখানে বিভাগের বর্তমান-সাবেক শিক্ষার্থীরা ছাড়াও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

র‌্যালি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং রজতজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। 

আলোচনা সভায় সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদ বলেন, আমাদের এই বিভাগ অনেক সনামধন্য অ্যালামনাইয়ের জন্ম দিয়েছে। অ্যালামনাইরা বিভাগে ফিরে তাদের প্রাণ ফিরে পাই৷ আমাদের অ্যালামনাইরা নদীর মত, যা নদী বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জ শহর পেড়িয়ে যায়,  কিন্তু নামের কোনো পরিবর্তন হয় না। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গাতে সনামধন্য অবস্থানে ছড়িয়ে আছেন তারা। অধ্যাপক, গবেষণা, বিভিন্ন অ্যাডমিনিস্টেটিভ পজিশন, ইঞ্জিনিয়ারিং পজিশন, উদ্যোক্তা সকল জায়গা তাদের বিচরণ কিন্তু তারা বারবার ফিরে আসতে চাই তাদের জন্মের ঠিকানায়। এই ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষাই আজ অ্যালামনাইদের একত্রিত করে রাখার একটি বড় অনুপ্রেরণা।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক শৃঙ্খলা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকে শিক্ষা ও গবেষণার মান। আইসিটি বিভাগ সেই মানোন্নয়নে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছে।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে আইসিটি শিক্ষার্থীরাই আগামীর নেতৃত্ব দেবে। উদ্ভাবন, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের মাধ্যমে এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।

তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, মানুষের শিক্ষাজীবনের শেষ ধাপ হলো বিশ্ববিদ্যালয়। এখান থেকেই জীবনের প্রকৃত রূপান্তর শুরু হয়। এই রূপান্তরকে যারা সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারেন, তারাই জীবনের সর্বোচ্চ সফলতার শিখরে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

তিনি আরও বলেন, এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের কেন্দ্রে অবস্থান করছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যেমন পৃথিবীকে বদলে দিয়েছে, তেমনি এই বিভাগের শিক্ষার্থীরাই সেই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান অনুঘটক। আইসিটি বিভাগ ইতোমধ্যেই সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ বিভাগের অনেক শিক্ষার্থী দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

❤️
Love
0
(0.00 / 0 total)
👏
Clap
0
(0.00 / 0 total)
🙂
Smile
0
(0.00 / 0 total)
😞
Sad
0
(0.00 / 0 total)

মন্তব্যসমূহ

এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।


সম্পর্কিত নিউজ