চবির অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করায় ভিন্নপ্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চাকসুর এজিএস

চবির অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করায় ভিন্নপ্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চাকসুর এজিএস
  • Author, জবি প্রতিনিধি
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের শিক্ষক ও সাবেক প্রক্টর হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভকে আটক করার প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চাকসুর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) আইয়ুবুর রহমান তৌফিক।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া একটি পোষ্টের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি বলেন, চবির আইন বিভাগের পান্ডা হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ নিঃসন্দেহে একজন খারাপ শিক্ষক। আওয়ামী আমলে তিনি নানা সময়ে তিনি বিরোধী মতের শিক্ষার্থীদের হেনস্থা করেছেন। সর্বশেষ জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করেছেন। তার অন্যায় অপরাধের ফিরিস্তি ও বিচার চেয়ে ইতোপূর্বে কথা বলেছি এবং তার বিচার হওয়া জরুরী। 

তিনি আরও যোগ করেন আগে ছিল, কিন্তু আজ চাকসু নেতৃবৃন্দ রোমান শুভকে যে প্রক্রিয়ায় আটক করেছে তা দায়িত্বশীল জায়গা থেকে সমর্থনযোগ্য নয়। রোমান শুভ এ বছরের প্রতিটি ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছে বলে জেনেছি। কিন্তু আজই তাকে ধাওয়া করা হলো। ইতোপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে তাকে একই মঞ্চে দেখা গেছে,পাশে ভিসি মহোদয়ও ছিলেন। রোমান শুভর ব্যাপারে চাকসু সহ শিক্ষার্থীরা ভিসি সহ প্রশাসনকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে পারতাম। 

এজিএস তৌফিক বলেন, চবিতে রোমান শুভের মতো ফ্যাসিস্টরা এখনো চাকুরী করছে। অভিযুক্ত বহু শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে ঘুরছে। তাদের ব্যাপারে প্রশাসন চুপচাপ। আপনারা জানেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শুক্রবার ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৫৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রভাষক হয়েছেন দুই উপ-উপাচার্যের মেয়ে ও ভাগনে। চবি ল্যাবরেটরি স্কুলের নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য অধ্যাপক রেজাউল আজিমের স্ত্রী এবং শ্যালিকাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রমোশন হয়েছে নিজেকে জমিদার দাবী করা জামাত নেতার। রেজিস্টারের ভাইকেও দেয়া চাকুরী দেওয়া হয়েছে। অঞ্চলপ্রীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রতি সহ নানা অভিযোগ উঠেছে নিয়োগ নিয়ে। অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে 'পারিবারিক প্রতিষ্ঠান' হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। 

তৌফিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে চাকসু এসব নিয়োগ ও অনিয়ম নিয়ে প্রশাসনকে জবাবদিহিতা করতে পারতো। আমি গতকাল চাকসু'র অফিসিয়াল গ্রুপে  এসব বিষয়ে চাকসুর অবস্থান জানাতে বলেছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত চুপচাপ। নিয়োগ নিয়ে কোনো মন্তব্যই চাকসু করেনি। অভ্যুত্থানের পর অন্যতম আকাঙ্খা ছিলো শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা। কিন্তু আওয়ামী আমলের মতোই স্বজনপ্রীতি করে এই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘকালীন ক্ষতি করা হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট শিক্ষকের অপকর্মের ফিরিস্তির বিচার নিশ্চিত করা যেমন শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত তেমনি নিয়োগে স্বজনপ্রীতি দলীয়প্রীতির বিরুদ্ধে অবস্থানও প্রত্যাশিত। 

সর্বশেষ তিনি বলেন, নিয়োগ নিয়ে চুপ থাকা ও জবাবদিহিতা না চাওয়া নেতৃবৃন্দ যখন ক্যাম্পাসে ৭ দিন ডিউটি করা রোমান শুভকে ধাবড়ানি দিয়ে বড় অর্জন মনে করে, আমি সেটি মনে করিনা। রোমান শুভ প্রশাসনের শেল্টারেই ডিউটি দিচ্ছিলেন এবং প্রশাসন নিয়োকাণ্ডে সমালোচিত হচ্ছিলেন। বাকিটা বিষয়টা বুঝে নেয়ার দায়িত্ব চবি শিক্ষার্থীদের উপরই ছেড়ে দিলাম।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোফিকের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নিয়োগের বিষয়টি এই ঘটনার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে কিনা এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান তিনিও এ ব্যাপারে প্রশ্ন রাখছেন। কারণ নিয়োগের ব্যাপারে চাকসু তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেনি।
 

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

❤️
Love
0
(0.00 / 0 total)
👏
Clap
0
(0.00 / 0 total)
🙂
Smile
0
(0.00 / 0 total)
😞
Sad
0
(0.00 / 0 total)

মন্তব্যসমূহ

এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।


সম্পর্কিত নিউজ