চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যক গবেষণা প্রকাশনার রেকর্ড

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যক গবেষণা প্রকাশনার রেকর্ড
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

গবেষণার বৈশ্বিক মানদণ্ডে নতুন উচ্চতা স্পর্শ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মোট ৬১৫টি গবেষণা প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন স্কোপাস-ইনডেক্সড (Scopus-indexed) জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যক গবেষণা প্রকাশনার রেকর্ড।

সম্প্রতি স্কোপাস ডাটাবেজের তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান ও তালিকা প্রকাশ করেছে চবি রিসার্চ অ্যান্ড হায়ার স্টাডি সোসাইটি। প্রকাশিত ৬১৫টি প্রবন্ধের মধ্যে রয়েছে রিসার্চ আর্টিকেল, রিভিউ আর্টিকেল, কনফারেন্স প্রসিডিংস এবং রিসোর্স অ্যানাউন্সমেন্ট। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের প্রবন্ধ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ও অত্যন্ত প্রভাবশালী জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট’ (The Lancet) এবং ‘নেচার কমিউনিকেশন্স’ (Nature Communications)-এ প্রকাশিত হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনটির অধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করে ৩০ জন শিক্ষক শীর্ষ তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। বিভাগভিত্তিক গবেষণায় সবচেয়ে এগিয়ে ছিল রসায়ন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মেসি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ এবং ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট।

অনুষদগুলোর মধ্যে এককভাবে সর্বাধিক প্রকাশনা এবং সর্বোচ্চ Q1 (শীর্ষ ২৫ শতাংশ জার্নাল) মানসম্পন্ন গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করে শীর্ষে রয়েছে জীববিজ্ঞান অনুষদ। আন্তর্জাতিক যৌথ গবেষণার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও সৌদি আরবের গবেষকদের সঙ্গে। প্রকাশিত গবেষণার প্রায় ৫৫ শতাংশ অর্থায়ন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও প্রকাশনা অধিদপ্তর।

নারী গবেষকদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন মল্লিকা রায়, নওরিন মনির প্রমা, ড. ফারজানা ইয়াসমিন চৌধুরী এবং ড. আসমা বিনতে শফিক।

গবেষণা পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, এই তালিকায় শুধুমাত্র সেসব গবেষণা প্রবন্ধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে University of Chittagong এফিলিয়েশন উল্লেখ রয়েছে। এর বাইরে ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক স্বনামধন্য শিক্ষক আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জার্নালে গবেষণা প্রকাশ করলেও, প্রবন্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ না থাকায় সেগুলো এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

২০২৫ সালের স্কোপাস-ইনডেক্সড পাবলিকেশনভিত্তিক শীর্ষ ১০ গবেষক

১ম স্থানে যৌথভাবে রয়েছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন এবং ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মো. ইদ্রিস আলম।
২য় স্থানে রয়েছেন রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. এস. এম. আবে কাউছার।
৩য় স্থানে রয়েছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুল আলীম।
৪র্থ স্থানে রয়েছেন ফার্মেসি বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল হোসাইন ও রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. ফয়সল ইসলাম চৌধুরী।
৫ম স্থানে রয়েছেন মনোবিজ্ঞান বিভাগের অলি আহমেদ ও ফার্মেসি বিভাগের এস. এম. মোয়াজ্জেম হোসেন।
৬ষ্ঠ স্থানে রয়েছেন মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মো. শফীকুল ইসলাম।
৭ম স্থানে রয়েছেন ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ নাথ।

৮ম স্থানে যৌথভাবে রয়েছেন মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আফতাব উদ্দিন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. হাসান খালেদ রউফ, ফরেস্ট্রি ও এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. তড়িৎ কুমার বল এবং অর্থনীতি বিভাগের মল্লিকা রায়।

৯ম স্থানে রয়েছেন বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আতিয়ার রহমান, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. আদনান মান্নান, ইইই বিভাগের প্রফেসর ড. কাজী তানভীর আহম্মদ রনি ও ড. মো. শাহ আলম, রসায়ন বিভাগের ড. মো. কামরুল হোসেন, ফার্মেসি বিভাগের নওরিন মনির প্রমা এবং গণিত বিভাগের রাজীব কর্মকার।

১০ম স্থানে রয়েছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. রেজাউল আজিম, মেরিন সায়েন্সেস ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম, পরিসংখ্যান বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর, ইইই বিভাগের প্রফেসর ড. মো. ফজলুল কাদের, ফিশারিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আজম খান, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ড. মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী ও ইব্রাহিম খলিল আল হায়দার, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের ড. মো. মাহবুব হাসান, মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের ড. আজিজুল হাকিম, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মুহাম্মদ জাকারিয়া এবং ফার্মেসি বিভাগের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম।

জীববিজ্ঞান অনুষদে শীর্ষ গবেষক হিসেবে রয়েছেন প্রফেসর ড. মো. ইদ্রিস আলম, প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ নাথ, ড. মোহাম্মদ কামরুল হোসাইন, এস. এম. মোয়াজ্জেম হোসেন, নওরিন মনির প্রমা, মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, প্রফেসর ড. অলি আহমেদ, প্রফেসর ড. মো. শফীকুল ইসলাম, ড. আজিজুল হাকিম, প্রফেসর ড. মো. আতিয়ার রহমান, প্রফেসর ড. আদনান মান্নান, ড. মো. মাহবুব হাসান, ড. মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী এবং ইব্রাহিম খলিল আল হায়দার।

সমাজবিজ্ঞান অনুষদে রয়েছেন অর্থনীতির মল্লিকা রায়, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতার মুহাম্মদ জাকারিয়া, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন, সমাজতত্ত্ব বিভাগের ড. মো. মাসুদ-আল-কামাল এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. খাদিজা মিতু।

কলা ও আইন অনুষদে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ড. ফারজানা ইয়াসমিন চৌধুরী এবং আইন বিভাগের প্রফেসর ড. আসমা বিনতে শফিক শীর্ষ গবেষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে শীর্ষ গবেষক হিসেবে রয়েছেন মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আফতাব উদ্দিন ও মো. কফিল উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সেতু রঞ্জন বিশ্বাস, প্রফেসর ড. মো. সাহিদুর রহমান ও শারমিন আক্তার, অ্যাকাউন্টিং বিভাগের মো. তাহাছিনুল আবেদীন, ফিন্যান্স বিভাগের প্রফেসর ড. এস. এম. শোহরাবুদ্দীন, মার্কেটিং বিভাগের প্রফেসর ড. শান্ত বনিক এবং ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের মোহাম্মদ রিফাত রহমান।

ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিজ্ঞান অনুষদে শীর্ষে রয়েছেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুল আলীম, ড. কাজী তানভীর আহম্মদ রনি, ড. মো. শাহ আলম, প্রফেসর ড. মো. ফজলুল কাদের, প্রফেসর ড. হাসান খালেদ রউফ, প্রফেসর ড. এস. এম. আবে কাউছার, প্রফেসর ড. ফয়সল ইসলাম চৌধুরী, ড. মো. কামরুল হোসেন, প্রফেসর ড. তড়িৎ কুমার বল, রাজীব কর্মকার, প্রফেসর ড. রেজাউল আজিম এবং প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর।

মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদে শীর্ষ গবেষক হিসেবে রয়েছেন প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম, প্রফেসর ড. এস. এম. শরীফুজ্জামান, ড. জুয়েল দাস এবং প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আজম খান।


উল্লেখ্য, স্কোপাস (Scopus) হলো নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এলসেভিয়ার (Elsevier) পরিচালিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও নির্ভরযোগ্য গবেষণা তথ্যভাণ্ডার। এতে বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পিয়ার-রিভিউড (peer-reviewed) জার্নাল, কনফারেন্স প্রসিডিংস ও গবেষণাভিত্তিক প্রকাশনা সূচিভুক্ত থাকে। কোনো জার্নাল স্কোপাস-ইনডেক্সড হওয়া মানে হলো—ওই জার্নালের গবেষণা মান, রিভিউ প্রক্রিয়া, প্রকাশনার স্বচ্ছতা ও বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে স্বীকৃত।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার মান, বৈশ্বিক র‍্যাংকিং, গবেষকদের ইমপ্যাক্ট ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মূল্যায়নে স্কোপাস-ইনডেক্সড প্রকাশনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। সে কারণে স্কোপাস-ইনডেক্সড জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন গবেষণা হিসেবে গণ্য করা হয়।


সম্পর্কিত নিউজ