দুই কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন রুয়েট ভর্তি পরীক্ষা, উপস্থিতি ৮৫ শতাংশ

দুই কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন রুয়েট ভর্তি পরীক্ষা, উপস্থিতি ৮৫ শতাংশ
  • Author, রাবি প্রতিনিধি : রাফাসান আলম
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। দুই কেন্দ্র মিলিয়ে এবারের ভর্তি পরীক্ষায় উপস্থিতির হার ছিল ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশ, যা পরীক্ষার সার্বিক সফলতার একটি ইতিবাচক প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মোট ১৮ হাজার ২৭৭ জন আবেদনকারীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ১৫ হাজার ৫৬৭ জন শিক্ষার্থী। এ বছর রুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা রাজশাহীর রুয়েট ক্যাম্পাস ও ঢাকায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এই দুই কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।

রুয়েট কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন ৬ হাজার ৮৭৮ জন পরীক্ষার্থী, যেখানে উপস্থিতির হার ছিল ৮১ দশমিক ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে বুয়েট কেন্দ্রে অংশ নেন ৮ হাজার ৬৮৯ জন শিক্ষার্থী, সেখানে উপস্থিতির হার ছিল ৮৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

ভর্তি পরীক্ষা এক শিফটে দুই গ্রুপে যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়। ‘ক’ গ্রুপের (প্রকৌশল) পরীক্ষা সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে দুপুর ১২টায় শেষ হয়। এরপর ‘খ’ গ্রুপের (স্থাপত্য) পরীক্ষা দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।

নম্বর বণ্টনের ক্ষেত্রে ‘ক’ গ্রুপে মোট ৪০০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্ন রাখা হয়। এর মধ্যে পদার্থবিজ্ঞানে ১২০, রসায়নে ১২০, উচ্চতর গণিতে ১২০ এবং ইংরেজিতে ৪০ নম্বর নির্ধারিত ছিল। অপরদিকে ‘খ’ গ্রুপে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।

ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে শুরু করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। রুয়েট প্রশাসন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করে। প্রশ্নফাঁস বা বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ে আগেই পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক করা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় নকল ও প্রযুক্তির অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও রুয়েটে বিশেষ সতর্কতার কারণে এ ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এছাড়া পরীক্ষাকালীন সময়ে কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম দ্রুত চিকিৎসাসেবা প্রদান করে। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য বসার ব্যবস্থা, খাবার ও ওয়াশরুমের সুবিধা রাখা হলেও ওয়াশরুম ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু অভিভাবককে সাময়িক বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো রুয়েট এককভাবে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করেছে।

এবারের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, ইলেকট্রনিক ও কম্পিউটার কৌশল এবং স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের অধীনে ১৪টি বিভাগে মোট ১ হাজার ২৩০টি সাধারণ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত ৫টি আসনসহ মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩৫টিতে।

ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে সারাদিন ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য ও ব্যস্ততা। সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। মেধার এই প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ পাবেন—যা তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


সম্পর্কিত নিউজ